ইংরেজ কর্মচারীর স্ত্রীর নামে বাজার, এখন দেশের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র
১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল। বিকেল তখন প্রায় পাঁচটা। হঠাৎ কেঁপে উঠল চট্টগ্রাম। প্রায় চার মিনিট স্থায়ী সেই ভূমিকম্পের সময় কামানের গর্জনের মতো ১৫টি বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল। ভূমিকম্পের তীব্রতায় শুধু ঘরবাড়িই ধ্বংস হয়নি, বদলে গিয়েছিল ভূখণ্ডের চেহারাও। কোথাও ভূমি উঁচু হয়ে গিয়েছিল, কোথাও আবার ধসে পড়েছিল।
সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পের বিবরণ লিখে তৎকালীন ইসলামাবাদে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যক্রমের প্রধান হ্যারি ভেরেলস্ট পাঠিয়েছিলেন ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর হেনরি ভ্যানসিটার্টের কাছে। ফারসি থেকে অনূদিত ওই বিবরণ ১৭৬৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফিলোসফিক্যাল ট্রানজেকশনস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। জার্নালটির ৫৩তম খণ্ডের ২৬৫ থেকে ২৬৯ পৃষ্ঠায় রয়েছে সেই বিবরণ।
ভূমিকম্পটির প্রভাব পড়েছিল চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতিতে। বদলে গিয়েছিল কর্ণফুলী নদীর গতিপথ। নদী ও খালের গতিপথের পরিবর্তনে কোথাও কোথাও জেগে উঠেছিল নতুন ভূমি। সেখানে গড়ে উঠেছিল নতুন বসতি ও বাণিজ্য কেন্দ্র। চট্টগ্রামের এই বদলে যাওয়া ভূগোলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের উত্থানের গল্প।
চট্টগ্রামের চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জ ও কোরবানিগঞ্জ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, মসলা, গমসহ নানা নিত্যপণ্যের বড় অংশের বেচাকেনা হয় এই এলাকায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পণ্য কিনে নিয়ে যান। ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহৎ বাজার হিসেবে পরিচিত খাতুনগঞ্জের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে নদী, খাল ও জনপদ গড়ে ওঠার দীর্ঘ ইতিহাস।
খাতুনগঞ্জ যে জায়গায় আজ দাঁড়িয়ে আছে, সেই ভূখণ্ড সব সময় এমন ছিল না। সময়ের সঙ্গে সরে গেছে নদী, তৈরি হয়েছে খাল, জেগে উঠেছে নতুন ভূমি। সেই ভূখণ্ডকে ঘিরেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে বসতি, হাটবাজার ও বাণিজ্য কেন্দ্র। চট্টগ্রামের বদলে যাওয়া ভূগোলের সঙ্গে খাতুনগঞ্জের উত্থানের যোগসূত্র খুঁজতে গেলে তাই প্রথমেই ফিরে যেতে হয় চাক্তাই খালের কাছে।
‘চাক্তাই নুল্লা’
একসময় চাক্তাই খাল থেকে কর্ণফুলী নদী ও চানখালী খাল হয়ে সাঙ্গু নদীর মাধ্যমে বান্দরবানের থানচি ও রুমা পর্যন্ত নৌযানে পণ্য পরিবহন করা হতো। অর্থাৎ চাক্তাই শুধু একটি জলধারা ছিল না, এটি ছিল পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথের আশপাশেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে বাণিজ্য কেন্দ্র। ১৮১৮ সালে স্কটিশ জেনারেল জন চিপের আঁকা মানচিত্রে চট্টগ্রামের তিনটি বড় খালের একটি হিসেবে চাক্তাইয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
জন চিপের মানচিত্রে চাক্তাই খালকে ‘চাক্তাই নুল্লা’ বা ‘নাল্লা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মানচিত্রে দেখা যায়, তৎকালীন শহরের একটি প্রান্ত চাক্তাই খাল ঘেঁষে চকবাজার হয়ে মুরাদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অন্যদিকে গোসাইলডাঙ্গা থেকে টাইগারপাস হয়ে ষোলশহর পর্যন্তও ছিল শহরের বিস্তার। দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী এবং উত্তরে বহদ্দারহাট পর্যন্ত এলাকা ছিল শহরের সীমানার মধ্যে।
হামিদুল্লাহ খানের প্রতিষ্ঠিত বাজারের পাশেই ছিল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী খাতুন বিবির নিজস্ব জমি। সময়ের সঙ্গে সেই জমিতে গড়ে উঠতে থাকে দোকানপাট। বেচাকেনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট বাজার–সংলগ্ন এলাকাটিও খাতুন বিবির নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে জায়গাটির নাম হয়ে যায় খাতুনগঞ্জ।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন চট্টগ্রাম শহরের বসতি গড়ে উঠেছিল চাক্তাই খালের পশ্চিম তীরে। বিপরীতে পূর্ব তীরের বড় একটি অংশ তখন ছিল চরাঞ্চল। ধারণা করা হয়, কর্ণফুলী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পর চাক্তাই খাল বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে টিকে থাকে। চাক্তাই খাল ও কর্ণফুলীকে ঘিরে গড়ে উঠতে থাকে নতুন বসতি ও বাণিজ্যিক এলাকা।
গবেষক হারুন রশীদ তাঁর চিৎ-তৌৎ-গং গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ১৭৬২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর খালের পূর্ব অংশ জেগে উঠতে পারে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও অনুমান করা যায়, ওই ভূমিকম্পের প্রভাব ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিকভাবে পলি জমেও কর্ণফুলী ভরাট হয়েছে। আর সেখান থেকেই আজকের চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ কিংবা বাকলিয়া এলাকার সৃষ্টি।
চাক্তাই খালকে ঘিরে গড়ে ওঠা নৌ–বাণিজ্যের সঙ্গে ধীরে ধীরে যুক্ত হতে থাকে ঘাট, গুদাম ও আড়ত। কর্ণফুলীর কাছাকাছি অবস্থান এবং খালের নৌপথ পণ্য আনা-নেওয়া সহজ করে দেয়। ফলে জলপথের আশপাশে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও বিস্তৃত হতে থাকে। চাক্তাইয়ের এই বাণিজ্যিক বিস্তারের ধারাবাহিকতায় পরে গড়ে ওঠে খাতুনগঞ্জের বাজার। আর সেই বাজারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে খাতুন বিবির নাম।
‘খাতুন বিবির বাজার’ থেকে খাতুনগঞ্জ
উনিশ শতকের চট্টগ্রামের ইতিহাস নিয়ে লেখা ফারসি ভাষার গ্রন্থ আহাদিসুল খাওয়ানিন ১৮৭১ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। বইটির লেখক ইংরেজ কর্মচারী হামিদুল্লাহ খান বাহাদুর। খাতুনগঞ্জের ইতিহাসের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে।
চট্টলতত্ত্ববিদ আবদুল হক চৌধুরীর বন্দর শহর চট্টগ্রাম গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংরেজ কর্মচারী খান বাহাদুর শেখ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ খান (১৮০৯-১৮৮০) বর্তমান খাতুনগঞ্জের কাছাকাছি এলাকায় একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরে বাজারটি ‘হামিদুল্লাহ মিঞার বাজার’ নামে পরিচিত হয়।
খাতুনগঞ্জের যাত্রা শুরু হয়েছিল এই হামিদুল্লাহ মিঞার বাজার থেকে। আবদুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, হামিদুল্লাহ খানের প্রতিষ্ঠিত বাজারের পাশেই ছিল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী খাতুন বিবির নিজস্ব জমি। সময়ের সঙ্গে সেই জমিতে গড়ে উঠতে থাকে দোকানপাট। বেচাকেনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট বাজারসংলগ্ন এলাকাটিও খাতুন বিবির নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে জায়গাটির নাম হয়ে যায় খাতুনগঞ্জ।
নব্বইয়ের দশকের আগপর্যন্ত বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল খাতুনগঞ্জ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে পণ্য কিনে নিয়ে যেতেন। দিনরাত চলত বেচাকেনা। তবে সেই ব্যস্ততা এখন অনেকটাই ম্লান।
চট্টগ্রাম বন্দরের বাণিজ্য যত বাড়তে থাকে, বদলাতে থাকে খাতুনগঞ্জও। নদীপথে আসা পণ্য নামতে থাকে আশপাশের ঘাটে। পাশাপাশি সড়কপথে আসা পণ্যও ঢুকতে থাকে বাজারের গুদাম ও আড়তে। ধীরে ধীরে স্থানীয় বাজারের সীমানা ছাড়িয়ে দেশের নানা প্রান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে খাতুনগঞ্জ। এই পরিবর্তনের অন্যতম সাক্ষী হয়ে ওঠে চাক্তাই খাল।
বর্তমানে খাতুনগঞ্জে গেলে ইতিহাসের ছাপ শুধু বইয়ের পাতায় নয়, পুরোনো ভবন ও সরু সড়কেও দেখা যায়। কোথাও পুরোনো দালানের কাঠের দরজা, কোথাও ক্ষয়ে যাওয়া দেয়াল, আবার কোথাও সাইনবোর্ডে চোখে পড়ে পুরোনো টেলিফোন নম্বর। সরু সড়কে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে পণ্যবোঝাই ট্রাক ও ভ্যান। পুরোনো স্থাপনার সঙ্গে নতুন সাইনবোর্ড ও আধুনিক ব্যবসার এই সহাবস্থান যেন খাতুনগঞ্জের বদলে যাওয়া সময়ের ছবি।
সোনালি দিনের খাতুনগঞ্জ
ইংরেজ আমল পেরিয়ে পাকিস্তান আমলেও এ অঞ্চলের পণ্য বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল খাতুনগঞ্জ। তবে তখন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ মূলত ছিল অবাঙালি ব্যবসায়ীদের হাতে। বাঙালি ব্যবসায়ীরা ছিলেন তাঁদের আমদানি করা পণ্যের বিক্রেতা। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে বদলে যায় সেই চিত্র। বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বাঙালি ব্যবসায়ীদের হাতে। এরপর খাতুনগঞ্জের বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হতে থাকে।
গত শতকের শেষ ভাগ থেকে একবিংশ শতকের শুরুর দিক পর্যন্ত খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেলের বাজার ছিল তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ। চট্টগ্রামের টি কে, আবুল খায়ের, এমইবি, মোস্তফাসহ প্রায় ১২টি গ্রুপের মধ্যে চলত তীব্র প্রতিযোগিতা। সকাল শুরু হতো এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রির কাগজ বা ডিও (চাহিদাপত্র) হাতবদলের মধ্য দিয়ে। আড়তের আশপাশে জটলা থাকত ব্রোকারদের। দর ওঠানামা করত শেয়ারবাজারের মতো। সরগরম ছিল চিনি, গম, ডাল ও মসলার বেচাকেনা।
কিন্তু সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই অতীত। মাত্র তিন দশকের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জের চেহারায় এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময়কার বড় বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। কারও নাম এখন খুঁজে পাওয়া যায় আদালতের শুনানির কার্যতালিকায়, কেউ আবার ব্যবসার ধরন বদলে চলে গেছে অন্য শিল্পে। কমেছে চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। তাদের জায়গা নিয়েছে ঢাকার কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও খাতুনগঞ্জের ব্যবসার বড় অংশীদারির প্রমাণ পাওয়া যায় তথ্য-উপাত্তে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া চাল, ডাল, গম, সয়াবিন তেল, পাম তেল ও চিনির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ লাখ টন। এর মধ্যে ১২ লাখ টন বা ৬২ শতাংশই আমদানি করেছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জেই বেচাকেনা চলত এসব পণ্যের।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিঞা বাজারের প্রায় ৭৫ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাচা মিয়া সওদাগর। পারিবারিক এই ব্যবসার সঙ্গে চার দশক ধরে যুক্ত আছেন প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিস। তাঁর স্মৃতিতে, নব্বইয়ের দশকের আগপর্যন্ত বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল খাতুনগঞ্জ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে পণ্য কিনে নিয়ে যেতেন। দিনরাত চলত বেচাকেনা। তবে সেই ব্যস্ততা এখন অনেকটাই ম্লান।
জৌলুস হারিয়েছে খাতুনগঞ্জ
দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে। অথচ বন্দরকে ঘিরে থাকা খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্য আমদানিতে নিজেদের আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারছেন না। আমদানির বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন ঢাকাভিত্তিক ব্যবসায়ীদের হাতে। চট্টগ্রামে নানা ধরনের কারখানা থাকলেও ভোগ্যপণ্যের বড় অংশের উৎপাদন ও মোড়কজাতকরণ হচ্ছে দেশের অন্য অঞ্চলে। ফলে মোড়কজাত পণ্যের বাজারেও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ কমেছে।
দেশে মোড়কজাত নিত্যপণ্যের বাজার বাড়ার সঙ্গে বদলে গেছে খাতুনগঞ্জের ব্যবসার ধরনও। আগে যেখানে খোলা পণ্য বেচাকেনা হতো, এখন তার একটি বড় অংশ কারখানা থেকেই মোড়কজাত হয়ে বাজারে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে পণ্য আমদানি হলেও সেগুলোর একটি অংশ ঢাকায় গিয়ে মোড়কজাত হয়ে আবার চট্টগ্রামে ফিরছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ কমছে, বাড়ছে পরিবহন ব্যয়ও।
গত দুই দশকে ভোগ্যপণ্যের বাজারের আকার যেমন বেড়েছে, তেমনি বদলেছে ব্যবসার ধরন। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে চট্টগ্রামের অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠী খাতুনগঞ্জের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। কেউ ব্যাংকের খেলাপি হয়ে ব্যবসা এগিয়ে নিতে পারেনি। আবার নিত্যপণ্য মোড়কজাত করে বাজারজাত করার প্রবণতা বাড়ায় খোলা পণ্যের বাজারও ছোট হয়েছে। ফলে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যে খাতুনগঞ্জের অংশীদারত্ব ধীরে ধীরে কমেছে।
তবে খাতুনগঞ্জের গুরুত্ব পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। দেশে কোনো পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন, তা জানতে এখনো ব্যবসায়ীদের একবার হলেও খাতুনগঞ্জের বাজারের খোঁজ নিতে হয়। লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমেছে। ফলে কমেছে প্রতিযোগিতাও। আর প্রতিযোগিতা কমে গেলে ক্রেতারাও প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ হারান।
খাতুনগঞ্জের পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজধানীমুখী হওয়ায় আমদানি ও পাইকারি বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা কমেছে। প্রতিযোগিতা কমলে এর প্রভাব পড়ে দামের ওপর। ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান করে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে খাতুনগঞ্জের পুরোনো জৌলুস ফিরতে পারে।