বৃষ্টি কখন নামবে, সেই প্রহর গুনছেন জেলেরা। কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছটার জেলে আবুল কালাম (৫৫) বলেন, চলতি জুলাই মাসে কক্সবাজারে তেমন বৃষ্টি হয়নি। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি হবে, এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। ইলিশ ধরা না পড়লে পরিবারের সদস্যদের না খেয়ে থাকতে হবে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টি কম ও প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।

ট্রলারের মালিকেরা বলছেন, অন্যান্য বছর জুন ও জুলাই মাস বৃষ্টিতে ভরপুর থাকে। কিন্তু চলতি জুলাই মাসে কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত হয়নি, চলছে তীব্র দাবদাহ।

আজ সকালে শহরের বাঁকখালী নদীর ফিশারিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, গভীর সাগর থেকে ৩০টির বেশি ট্রলার ফিরেছে। প্রতিটি ট্রলারে ১০০ থেকে ৯০০টি করে ইলিশ। ফিশারিঘাটে ৫৪০টি ইলিশ বিক্রি করে এফবি কাউসার নামের একটি ট্রলার। ট্রলারের মাঝি আবদুল গফুর (৫০) বলেন, ১৯ জন জেলে নিয়ে সাগরে ৫ দিনে ৫৪০টি ইলিশ পেয়েছেন তাঁরা। এতে জ্বালানির খরচও উঠেনিএফবি আল্লাহর দান ট্রলারের জেলে সিরাজ মিয়া (৪৮) বলেন, গরমের কারণে মনে হয় ইলিশ অন্য কোথাও চলে গেছে। চার দিন সাগরে জাল ফেলে তাঁর ট্রলারে ধরা পড়েছে ২৭০টি ইলিশ।

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা ২৩ জুলাই থেকে ৫ দিন সাগরে জাল ফেলে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরে আনেন। এর পর থেকে আর সাগরে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

ফিশারিঘাট মৎস্য ঐক্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি ওসমান গণি বলেন, ২৩ জুলাই থেকে টানা পাঁচ দিন প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়েছিল। প্রতিটি ট্রলারে ইলিশ ছিল। সর্বোচ্চ ৯ হাজার ইলিশও ধরা পড়েছিল। তখন প্রতিদিন ২০-৩০ ট্রাক ইলিশ ঢাকার বাজারে সরবরাহ করা হয়। ২৯ জুলাই থেকে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। এখন দিনে দুই থেকে চার ট্রাক ইলিশ ঢাকার বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। এ কারণে ইলিশের আহরণ কিছুটা কমেছে। তবে মজুত কমেনি। এখন প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপকূলে গড়ে ৩৫ মেট্রিক টন করে ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে। গত ৭ দিনে ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৪৫ মেট্রিক টনের বেশি। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লে এর সংখ্যা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন