নিহতের বাবার মামলায় আরেকজন গ্রেপ্তার, নির্দোষদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

গত শুক্রবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।ছবি : প্রথম আলো

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে হামলায় নিহত রাসেল মোল্লার বাবার করা মামলায় পুলিশ গতকাল বুধবার রাতে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর নাম লিটন বেপারী (৩৮)। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে মামলায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

হামলার পর পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার পাঁচ দিনে পুলিশ ইমামসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

৫ সেপ্টেম্বর পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পরদিন গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া হামলায় নিহত দরবারের ভক্ত রাসেল মোল্লার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে ৮ আগস্ট সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজারজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ গতকাল পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় নুরাল পাগলার গোয়ালন্দ পাক দরবার শরিফে হামলা চালানো হয়। একদল লোক নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় এলাকায় পুড়িয়ে দেন। এর আগে উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে বেশ কয়েকজন পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করেন। এতে ১০–১২ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রাসেল মোল্লা (২৭) নামের এক ভক্ত নিহত হন।

গোয়ালন্দ উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা ইমাম-আকিদা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা জালাল উদ্দিন প্রামাণিক দাবি করেন, পুলিশ পৌরসভার একটি মসজিদের ইমাম মুফতি আবদুল লতিফকে গ্রেপ্তার করেছে। এর পর থেকে গোয়ালন্দ পৌরসভাসহ উপজেলার অধিকাংশ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার–আতঙ্কে পলাতক আছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার–আতঙ্কে পৌরসভাসহ উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন নেই। সঠিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া যেন কাউকে হয়রানি না করা হয়, তিনি পুলিশের প্রতি সেই আহ্বান জানান।

এদিকে গতকাল রাজবাড়ী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের গ্রেপ্তার–আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলে জানায়। জেলা পুলিশ জানায়, নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে ঢালাওভাবে হয়রানির সুযোগ নেই। মামলা সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতকর্তা অবলম্বন করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।