ঠিকাদার পলাতক, আটকে আছে ৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প

চট্টগ্রামের রাউজানে ৩৫ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিসিক শিল্পনগর। সম্প্রতি তোলাছবি: প্রথম আলো

চারপাশে ইটের সীমানাপ্রাচীর, মাঝখানে ইট বিছানো সড়ক। রয়েছে তিনতলা ভবন। অথচ কোথাও কোনো কর্মী নেই, নেই নিরাপত্তা প্রহরী। ঘাস আর ঝোপঝাড়ে ঢাকা মাঠ এখন এলাকার তরুণদের আড্ডাখানা। নামে শিল্পনগর হলেও নেই শিল্পের কোনো চিহ্ন।

চট্টগ্রামের রাউজানের ক্ষুদ্র কুটির শিল্প করপোরেশনের চিত্র এটি। ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি আর কোনো কাজে আসছে না। কর্তৃপক্ষের দাবি, কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার পালিয়েছেন। এ কারণে প্রকল্পের সুফল কেউ পাচ্ছে না।

স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাউজান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ রয়েছে। এই শিল্পনগর চালু হলে পচনশীল ফলমূলের অপচয় কমবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান ও জঙ্গল রাউজান মৌজায় ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে ২০২২ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। এখানে ১৮৪টি শিল্প প্লট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন গ্রহণ করে লটারির মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। শিল্পনগরে পোশাক, প্লাস্টিক, খেলনা ও কুটির শিল্পভিত্তিক বিভিন্ন কারখানা স্থাপনের কথা রয়েছে। বিসিকের হিসাবে, শিল্পনগর চালু হলে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্লট ভরাট ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজটি পেয়েছিল ‘চৌধুরী অ্যান্ড বোস্তামী এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি যৌথ মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের একজন রাউজান পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ ও অপরজন ডাবুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

বিসিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া এই প্রকল্পের বেশির ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্লট ভরাট ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকার পতনের পর কাজ ফেলে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি আটকে পড়ে। এতে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে সীমানাদেয়াল ধসে গেছে, প্লট ভরাটের জন্য রাখা মাটিও সরে গেছে।

এ প্রকল্পের ঠিকাদার জমির উদ্দিন ও সাইফুদ্দিন চৌধুরী আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিসিকের চট্টগ্রাম জেলার উপমহাব্যবস্থাপক এস এম এম আলমগীর আল কাদেরী বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ প্রায় শতভাগ শেষ। কিন্তু ভরাট ও সীমানাপ্রাচীরের কাজ ঠিকাদার অসম্পূর্ণ রেখে পালিয়ে যাওয়ায় ক্ষতি বেড়েছে।’