ভোলায় বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
ভোলা সদর উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে (৬০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় রোববার সকালে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি জানাজানি হয়। হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেয় পুলিশ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল আটটার দিকে ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে ‘পড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে’ বলে দাবি করলেও হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকদের সন্দেহ তৈরি হয়। তাঁরা বৃদ্ধার শারীরিক পরিস্থিতি দেখে স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধর্ষণের বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই নারী অত্যন্ত ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। এখন তাঁকে চার ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। রোগীর রক্তের ক্রস ম্যাচিংয়ের কাজ চলছে। কিন্তু এখনো রক্ত পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী নারীর পূত্রবধু বলেন, তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকেন। তিনি ও তাঁর শাশুড়ি বাড়িতে একা থাকেন। গতকাল শনিবার তাঁর (পুত্রবধূ) ভাই বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতের বেলা তিনি শাশুড়িকে ধর্ষণ করেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ঘটনা জানতে পারেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় পরিচিত এক নার্সের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নেয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী নারীর নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। তাঁর চিকিৎসার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।’