বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ‘গণভোট’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে জনমত তৈরির জন্য বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গণভোটের আয়োজন করেছ গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল। মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই চলবে বৃহস্পতিবার
ছবি: প্রথম আলো

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে গণভোট। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল’-এর উদ্যোগে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই ভোট গ্রহণ কার্যক্রম চলবে।

এই গণভোটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ বেশ কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক আবদুর রহমান বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রায় ১৫ বছর। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকাই এর জন্য দায়ী। আমরা এই গণভোটের মাধ্যমে জানতে চাচ্ছি, শিক্ষার্থীরা আদৌ ছাত্র সংসদ চায় কি না।’

আবদুর রহমান আরও বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায়ে সরব হতে পারবে। এটাই ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ।’

শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪টি হলে মাত্র দেড় হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনসুবিধা রয়েছে। ২৫টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ৭৫টি কক্ষ প্রয়োজন, আছে মাত্র ৩৬টি। শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকসংকটে অধিকাংশ বিভাগে সেশনজট বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ছয় মাস থেকে দেড় বছর সেশনজটে আটকে থাকছেন। এতে হতাশা বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছরই নতুন নতুন বিভাগ চালু হচ্ছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে নানামুখী চাহিদা। কিন্তু সেসব চাহিদা পূরণে অবকাঠামোসহ অন্যান্য উন্নয়ন পিছিয়ে আছে। নানা সংকটের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা। প্রয়োজনীয়সংখ্যক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক না থাকায় শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আবাসন, পাঠদান কক্ষ, পরিবহন ও গ্রন্থাগারে বইয়ের সংকটও ব্যাপক।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসন করতে হলে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শিক্ষার মান, সুষ্ঠু পরিবেশ, নেতৃত্বের বিকাশসহ সামগ্রিক উন্নয়নে ছাত্র সংসদ থাকা জরুরি। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।’