ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেলে ক্ষতিপূরণ মাত্র ১০ হাজার, তা–ও পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা

রেল দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে ক্ষতিপূরণ মাত্র ১০ হাজার টাকা। ক্ষতিপূরণের এ হার নির্ধারণ করা হয়েছিল রেলওয়ে আইনে, যা প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৩৫ বছর আগে, ১৮৯০ সালে। ব্রিটিশ আমল শেষ হয়েছে, পাকিস্তান আমল পার হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়ে ৫৫ বছর চলছে। কিন্তু ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণের অঙ্কের পরিবর্তন হয়নি। ২০১০ সালের ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ক্ষতিপূরণের টাকা মাত্র ১০ হাজার হলেও তা পেতেও অপেক্ষা করতে হয় মাসের পর মাস।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীবাহী এগারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস ও মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষের পর স্থানীয় জনতার ভিড়। ২৪ অক্টোবর ২০২৩ সালে তোলাফাইল ছবি

২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরের ভাওয়াল রেলস্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। এতে নিহত হন ট্রেনযাত্রী আসলাম হোসেন (৩৫)। আহত হন আরও ১০ যাত্রী। তাঁরা সবাই ঢাকায় যাচ্ছিলেন।

সবজি বিক্রেতা স্বামীকে হারিয়ে অকূলপাথারে পড়েন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা গৃহিণী ফাতেমা খাতুন। দুর্ঘটনার পরপর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আর্থিক অনুদান ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। রেলওয়ের কাছেও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ঘটনার ২৮ মাস পার হয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ কিংবা অনুদান—কোনো কিছুই মেলেনি। জীবিকার তাগিদে এখন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে আয়ার চাকরি নিয়েছেন তিনি। সামান্য আয়ে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চলছে তাঁর কষ্টের সংসার।

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের আশা করেন ফাতেমা খাতুন। কিন্তু রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে মাত্র ১০ হাজার টাকা। আবার এই টাকা পেতেও নানা জটিলতা রয়েছে। প্রথমত নিহত বা আহতকে অবশ্যই ট্রেনের যাত্রী হতে হবে। ট্রেনের যাত্রী না হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ মাত্র ১০ হাজার টাকা—এই তথ্য জানা নেই ক্লিনিকের আয়ার চাকরি করা ফাতেমা খাতুন। তাঁর আশা, রেলওয়ে অন্তত এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে।

রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে মাত্র ১০ হাজার টাকা। আবার এই টাকা পেতেও নানা জটিলতা রয়েছে। প্রথমত নিহত বা আহতকে অবশ্যই ট্রেনের যাত্রী হতে হবে। ট্রেনের যাত্রী না হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের এ হার নির্ধারণ করা হয়েছিল রেলওয়ে আইনে, যা প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৩৫ বছর আগে, ১৮৯০ সালে। ব্রিটিশ আমল শেষ হয়েছে, পাকিস্তান আমল পার হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়ে ৫৫ বছর চলছে। কিন্তু ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণের অঙ্কের পরিবর্তন হয়নি। ২০১০ সালের ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

নামমাত্র ক্ষতিপূরণ, শত বছরেও পাল্টেনি আইন

ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইন করা হয়েছিল ১৮৯০ সালে। ওই আইন অনুযায়ী, ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা এবং আহতদের বেলায় শ্রেণিভেদে চার থেকে ছয় হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে এই আইন আর পরিবর্তন করা হয়নি।

রেলওয়ের আইনে বলা হয়েছে, রেলওয়ের পরিচালনাগত কোনো ভুলে দুর্ঘটনা হলেই কেবল শুধু যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। প্রকৃতিগত কোনো কারণে কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা হলে এবং যাত্রী মারা গেলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। রেলক্রসিংয়ে কেউ কাটা পড়লে সে ক্ষেত্রে লাশ সৎকারের জন্য ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দেওয়ার বিধান আছে।

রেলওয়ের এক কর্মকর্তার মতে, ডলার হিসাব করলে এখন এই ক্ষতিপূরণ পাঁচ লাখ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো ব্রিটিশ আমলের সে রেলওয়ে আইন সংশোধন করা হয়নি। তাই আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এখনো ১০ হাজার টাকা রয়ে গেছে। তবে নির্বাহী আদেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে এখনো ক্ষতিপূরণ ১০ হাজার টাকা থেকে গেলেও পাশের দেশ ভারত তা পরিবর্তন করেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তা সংশোধন করে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়। ট্রেন দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী দেড় লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পায় নিহতের পরিবার। আর গুরুতর আঘাতের জন্য দেওয়া হয় ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ রুপি। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে কখনো কখনো নির্ধারিত অঙ্কের চেয়েও বেশি ক্ষতিপূরণ দেয় ভারত সরকার।

চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর পূর্ব প্রান্তে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা। গত বছরের ৬ জুন তোলা
ফাইল ছবি

রেলওয়ের দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ সময়োপযোগী করার জন্য ২০১০ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের (রেলওয়ে তখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল) তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার ইফতেখার হায়দারকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

এই কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বর্তমান প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি প্রায় দুই বছর কাজ করার পর ২০১২ সালে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ আড়াই লাখ টাকা করার বিষয়ে মত দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার আগে কমিটির প্রধান অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তা আর অনুমোদন হয়নি। এখনো আগের আইনটি রয়ে গেছে। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক পরিবর্তন করা দরকার।

রেলওয়ের এই কর্মকর্তার মতে, ডলার হিসাব করলে এখন এই ক্ষতিপূরণ পাঁচ লাখ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো ব্রিটিশ আমলের সে রেলওয়ে আইন সংশোধন করা হয়নি। তাই আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এখনো ১০ হাজার টাকা রয়ে গেছে। তবে নির্বাহী আদেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় ‘অসহায়’ পরিবার

ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত আসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন রেলওয়ের কাছে আবেদন করেন ২০২৪ সালের জুনে। কিন্তু এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী এক লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ওই সময়ের স্থানীয় সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজকে তাঁদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তো তাঁরা কেউ নেই। ক্ষতিপূরণও পাননি।

ক্ষতিপূরণের জন্য রেলওয়ের কাছে আবেদন করেছেন জানিয়ে ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ কবে পাব, তা জানতে দু-তিনবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেলের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বারবার যাওয়ার সামর্থ্য নেই। ওখানে গেলে ছেলে-মেয়ে না খেয়ে থাকবে। তারপরও টাকা পাব বলে আশা আছে।’

এ দুর্ঘটনায় দেড় মাস আগে ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীবাহী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস ও মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নিহতদের সবার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল রেলওয়ে। মূলত তৎকালীন রেলমন্ত্রীর আশ্বাসে দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা দেয় রেল।

গত বছর পবিত্র ঈদুল আজহার দুদিন আগে ৫ জুন রাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর পূর্ব প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি আইসক্রিমবাহী ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে চুরমার করে দেয় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস। এতে অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তুষার (২৯) এবং দুই বছরের শিশু মেহেরিমা নূরের মৃত্যু হয়। শিশু মেহেরিমা মা-বাবার সঙ্গে তৌহিদুল ইসলামের অটোরিকশার যাত্রী ছিল।

মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে বাবা সাজ্জাদুন নূরের আহাজারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই দুর্ঘটনা নিয়ে মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ দুর্ঘটনায় সাজ্জাদুন নূরের স্ত্রী জুবাইরা ইসরাও আহত হয়েছেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালীতে যাচ্ছিলেন সাজ্জাদুন। রেলওয়ে এ দুর্ঘটনার জন্য ট্রেনচালকদের দায়ী করেছিল। ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দুই পরিবারের কেউ রেলওয়ের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ পায়নি।

ছেলের মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছেন তৌহিদুল ইসলামের পিতা আবুল মনসুর। বর্তমানে বোয়ালখালীতে গ্রামের বাড়িতে একটি দোকান চালান তিনি। প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের আয়ে সংসার চলত। এক দুর্ঘটনায় ছেলে গেল, নতুন অটোরিকশাও গেল। ছেলের এমন মৃত্যুতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই অসুস্থ হয়ে গেছেন। দোকান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসা করাতে পারেন না ঠিকমতো।

রেলওয়ের কাছে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করলেও তা মেলেনি বলে জানান শিশু মেহেরিমার বাবা সাজ্জাদুন নূর। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই চাকরিজীবী বলেন, ‘আমার মেয়ে তো চলে গেছে। রেলওয়ের ক্ষতিপূরণ দিয়ে আর কী করব?’ তিনি বলেন, রেলওয়ের ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। চাকরি করে তা করা সম্ভব হয় না।

মন্ত্রীর ‘আশ্বাসে’ মেলে লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

আইন অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা হলেও ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলোর কেউ কেউ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পায়। এই অর্থসহায়তা তখন পাওয়া যায়, যখন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কিংবা সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কেউ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন।

যেমন এবার ঈদুল ফিতরের রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাসের সংঘর্ষে নিহত বাসযাত্রীদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে রেলওয়ে। দুর্ঘটনার মাত্র দুই মাসের মধ্যে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে নিহতদের পরিবার। গত শুক্রবার রেল, সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম কুমিল্লায় এক অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেন।

কিন্তু ২০২২ সালের ২৯ জুলাই মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া রেলস্টেশনের কাছে রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ পরিবার এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। ২০২২ সালের ২৯ জুলাই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১৩ আরোহী নিহত হয়েছিলেন। নিহত এই ১৩ জনেরই বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কেউ ক্ষতিপূরণ পায়নি।

ব্রিটিশ শাসনামলে আসাম–বেঙ্গল রেলওয়ের একটি ট্রেন। ১৩৫ বছর আগে ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ হাজার টাকা। স্বাধীন বাংলাদেশে সেই টাকার অংকের পরিবর্তন হয়নি
ছবি: বাংলাদেশ রেলওয়ের আর্কাইভ থেকে নেওয়া।

নিহত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন কলেজছাত্র ওয়াহিদুল আলম। তাঁর বাবা মো. জানে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ছেলে পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবে. এই আশা ছিল। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনা সব শেষ করে দিয়েছে। এত বড় দুর্ঘটনার পরেও তাঁদের কেউ রেলওয়ের কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। রেলের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ক্ষতিপূরণের আবেদনও করতে বলেননি। উল্টো তৎকালীন রেলমন্ত্রী দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোবাসচালককে দায়ী করেছিলেন।

রেলের একজন কর্মকর্তা বলেন, কুমিল্লার ট্রেন দুর্ঘটনায় রেল প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই রেলওয়ে সে টাকা দেবে। যদি মিরসরাই, কালুরঘাটের দুর্ঘটনায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ছুটে এসে আশ্বাস দিতেন, তাহলে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ঠিকই ক্ষতিপূরণ পেত। কিন্তু এখন তাঁরা ট্রেনের যাত্রী না হওয়ায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।’

তবে রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গাজীপুরের ট্রেন দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে কি না, তার খোঁজ নেবেন। কালুরঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে রেলওয়ে নিজেদের তহবিল থেকে না হলেও অন্যভাবে অর্থসহায়তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। আর মিরসরাইয়ের ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার আবেদন করেছে কি না জানা নেই।