কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যা মামলায় ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানোর’ অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে দৌলতপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন দলটির নেতা–কর্মীরা।
দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। এরপর প্রধান সড়ক হয়ে দৌলতপুর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে ‘জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেন, প্রশাসন জবাব দাও’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শুরু থেকেই তাঁরা প্রশাসনের কাছে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। তবে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।
জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় খাজা আহমেদের জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণে তাঁর আকাশচুম্বী সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ একটি মহল তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের বাড়ি গিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে।
সমাবেশে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক এনামুল হক বলেন, দরবারে হামলা ও হত্যার ঘটনাকে তাঁরা কোনোভাবেই সমর্থন করেন না এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটির কয়েক দিন পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী মত দমনের লক্ষ্যে জামায়াত নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও ঘটনার সময় তিনি (খাজা) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় পাঁচ দিনেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলায় ‘হুকুমের আসামি’ করা জামায়াত নেতা খাজা আহমেদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার রাতেও নিজের ফেসবুক আইডিতে ১২ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। আজ অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশের ব্যানারের ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এজাহারের দ্বিতীয় আসামি খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামানকে আজ দুপুর ১২টার দিকে হোসেনাবাদ বাজারে একাধিক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে যেতে দেখেছেন। ঘটনার দিন থেকে মামলার ৩ নম্বর আসামি জামায়াতের কর্মী রাজীব মিস্ত্রি পলাতক।
জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। অভিযান চালিয়েও আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের সরব উপস্থিতি আছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা বিকেলে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছেন।
পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমের কয়েক বছর আগের ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গত শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার দুপুরের পর একদল ব্যক্তি ওই দরবারে হামলা চালান এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে নিহত ব্যক্তির বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে হুকুমের আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াতের নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। তিনি দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য। তাঁর বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে।
মামলার এজাহারে চারজনের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মো. আসাদুজ্জামান (৩৫)। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি। ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে পশ্চিম–দক্ষিণ ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে রাজীব মিস্ত্রিকে (৪৫)। ৪ নম্বর আসামি হলেন ইসলামপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।