আজ বুধবার সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলামের নানাবাড়িতে গিয়ে তার হাতে ওই ভ্যান ও কাপড়গুলো তুলে দেন প্রথম আলোর খুলনা বন্ধুসভার সদস্যরা। সেগুলো পেয়ে আপ্লুত হয় তরিকুল। খুশি হয়েছেন তার নানি হোসেনে আরাও।

হরিণটানা থানার চরা এলাকায় নানি ও ছোট মামার সঙ্গে বসবাস করে তরিকুল ইসলাম। নানি হোসনে আরা প্রথম আলোকে বলেন, একসময় খুলনা শহরের জিন্নাপাড়া এলাকায় বসবাস ছিল হোসনে আরাদের। ১২ থেকে ১৩ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। স্বামী দিনমজুর ছিলেন। তিনি ফেরি করে কাপড় বিক্রি করতেন। কখনো আবার বেচতেন মাছ। একমাত্র মেয়ে ময়নাকে (তরিকুল ইসলামের মা) জিন্নাপাড়া বউবাজার এলাকায় বিয়ে দিয়েছিলেন। তবে মেয়ের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। বেকার জামাই পরে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাছের ব্যবসা শুরু করেন। আরও পরে ট্রাকের ড্রাইভারি শুরু করে আলাদা বাসা নেন। তবে ময়নার সংসারে শান্তি ফেরেনি। তরিকুলের বয়স যখন সাড়ে তিন, তখন তার মা ‘আত্মহত্যা’ করেন।

মায়ের মৃত্যুর পর দাদাবাড়ির লোকজন তরিকুলকে তাঁদের কাছে নিয়ে যান জানিয়ে হোসনে আরা বলেন, ময়নার মৃত্যুর মাস দুয়েকের মাথায় আবার বিয়ে করেন তরিকুলের বাবা। এর পর থেকে প্রায়ই পালিয়ে তাঁদের বাড়িতে চলে আসত তরিকুল। পরে দাদার বাড়ির পাশের শিশুমেলা স্কুলে ভর্তি করা হয় তাকে। ক্লাস টুতে পড়ার সময় ব্যাটারিচালিত ভ্যান দুর্ঘটনায় পায়ের রগ ও মাংস থেঁতলে গিয়েছিল। এ কারণে তরিকুলের পা কেটে ফেলতে হয়।

বছর দুই আগে শরীরের একটা অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে হোসনে আরার। তিনি বলেন, অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর থেকে কাপড়চোপড় বিক্রির কাজে যেতে পারেন না। তরিকুলের দুই মামার বড়জনের অভাবের সংসার। পরিবার নিয়ে আলাদা থাকেন। আর ছোট মামা কিশোর বয়সী। রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করে। ছোট ছেলের সামান্য রোজগারে কোনোমতে টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছিলেন হোসনে আরা। এই ভ্যান ও বিক্রির জন্য শীতের পোশাক পেয়ে খুব উপকার হয়েছে তাঁদের।