স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা আগামী নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে: সৈয়দা রিজওয়ানা
নির্বাচন নিয়ে যাঁরা জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করছেন তাঁদের সমালোচনা করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু, পানিসম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বর্তমান সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিয়েছে। এই সময়ে এসে যদি মানুষের মুখ থেকে শুনতে হয় ভোট কি হবে, তখন বুঝতে হবে ১৬ বছরের স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে আগামী নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ফরিদপুর শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে আয়োজিত গণভোট ও নির্বাচন উপলক্ষে উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন রিজওয়ানা হাসান। এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে তিনি গণভোটের রিকশা, গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে সেখান থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা।
ক্ষমতাসীন নেতাকে তুষ্ট করে আমলাতন্ত্রের প্রমোশনের রীতি ভাঙতেই ‘হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘হ্যাঁ–তে ভোট দিলে নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হবে। আমরা যতবারই ভোট দিতে চাই, এটা হচ্ছে মুই আর মামুরা। আমাদের তো নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে না। কেন যেন বিকশিত হয় না। কারণ, আমি জানি এই দল থাকা মানে, এই নেতৃত্বই আসবে। হ্যাঁ-তে ভোট দিয়ে যখন নিয়ম হয়ে যাবে যে ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, তখন দলগুলোও নতুন নেতৃত্ব গড়ার ব্যাপারে মনোযোগী হবে।’
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে আমাদের হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে। কারণ, আমাদের জনগণ সংবিধানের কিছু কাঙ্ক্ষিত সেবা পায় না। প্রশাসনের কাজ জনগণের সেবা করা, জনপ্রতিনিধির কাজ সংসদে বসে আইন প্রণয়ন করা। এ দুটি কাজ সুষ্ঠুভাবে হবে যদি আমরা গণভোটে হ্যাঁ-কে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে পারি। তাহলে এ দেশে পুতুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথ বন্ধ হবে, বিচারকের ওপর বন্দুক রেখে সব অবৈধ কাজকে বৈধ করে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে।’
রিজওয়ানা হাসান বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে জাতীয় সংসদের অনেক কিছুতে পরিবর্তন আসবে। স্পিকার হবে সরকারি দল থেকে, ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তিনি বলেন, ‘যখন থেকে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, তখন থেকেই শুনি এই কর্মকর্তা হচ্ছে আওয়ামী লীগের, এই কর্মকর্তা হচ্ছে বিএনপির, ওই কর্মকর্তা হচ্ছে জামায়াতের। এগুলো কথা তো শোনা যাবে না। কর্মকর্তা হতে হবে প্রজাতন্ত্রের, সে সেবা করবে জনগণের। তার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে সেটার প্রতিফলন হতে পারে না। এটা করতে গিয়ে আমাদের যে আমলাতন্ত্র, এটা কখনো জনসেবায় অভ্যস্ত হয়নি, সে অভ্যস্ত হয়েছে নেতা তুষ্টিতে। কারণ, সে জানে ক্ষমতাসীন নেতাকে তুষ্ট করতে পারলেই তার প্রমোশন হবে। এই সিস্টেম ভাঙতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছাড়াও সাধারণ ভোটাররা অংশ নেন। সভায় নির্বাচনকালীন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান শহরতলির ভাজনডাঙ্গাতে এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন। বিকেল চারটার দিকে তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।