গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রথম দিনের তদন্ত শুরু করেছেন। গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এই তদন্তকাজ চলছে। তিন দিনব্যাপী এই তদন্ত কাজ চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এতে নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট অন্তত ৬৮৫ জনের বক্তব্য নেওয়া হবে।
প্রথম দিনে ১১ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৬৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫৫ জন পোলিং এজেন্ট, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য নেওয়া কথা রয়েছে। গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মোত্তালিবকে পাঠানো তদন্ত কমিটির সদস্য মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
আজ সকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, নির্বাচনের দিন প্রকৃত কী ঘটেছিল ছিল—এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রশ্ন করছেন এবং বিস্তারিত শুনছেন।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে ইসি। কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস ও শাহেদুন্নবী চৌধুরী। প্রধান নির্বাচন কশিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এই কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
১২ অক্টোবর সকাল আটটায় গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোটের দিন দুপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এরপর গোপন বুথে ঢুকে ভোট নেওয়াসহ নানা অনিয়ম সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে নির্বাচন কমিশন একে একে ৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে। এরপর বেলা দুইটার দিকে উপনির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্থগিত করা কেন্দ্র বাদে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণার দাবিতে ভোটের দিন বিকেল থেকে আন্দোলন করে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। এ উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহমুদ হাসান। অন্য চার প্রার্থী হলেন—জাতীয় পার্টির (জাপা) এ এইচ এম গোলাম শহীদ, বিকল্পধারার জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান ও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। চারজনই ভোট বর্জন করেছেন।
এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।