শাকসু নির্বাচন: ক্যাম্পাসে নির্বাচনী আমেজ, প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। আজ শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের সড়কেছবি: প্রথম আলো

কেউ হাত মেলাচ্ছেন, কেউ প্রচারপত্র বিলি করছেন। ভিড়ের দিকে এগোতেই প্রচারপত্র ধরিয়ে এক প্রার্থী বলেন, ‘ভাই, কেমন আছেন? ভোট ও দোয়াপ্রত্যাশী।’

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের কাছের একটি সড়কে দেখা যায় এমন চিত্র। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন এমন নির্বাচনী আমেজ।

২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগেই প্রচারণা শেষ করতে হবে। প্রচারণার সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে আগামীকাল শনিবার রাত ১০টায় প্রচারণার সময় শেষ হচ্ছে। এ কারণে ভোটারদের কাছে অন্তত একবার হলেও পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কারণে দুই–এক দিন প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেউ প্রচারণার সময় এক দিন বাড়ানোর দাবিও তুলেছেন।

গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনায় শাকসু নির্বাচন স্থগিতের উপক্রম হলে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তী সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে যোগাযোগ করে প্রার্থীদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি পাঠায়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ইসি শাকসু নির্বাচনের অনুমতি দেয়। এতে প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রচারণায়ও নতুন করে গতি এসেছে।

গতকাল ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা ইশতেহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কেউ কেউ প্রচারপত্রে নিজেদের ইশতেহার লিখে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। পদকেন্দ্রিক কেউ কেউ ‘বিশেষ’ ইশতেহার ভোটারদের কাছে প্রকাশ করছেন। ভোটারদের কাছ থেকে পরামর্শও নিচ্ছেন প্রার্থীরা। শিক্ষাসহ আবাসিক হলের মানোন্নয়ন, খেলাধুলার পরিসর বাড়ানো ও ছাত্রীদের জন্য নানা সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাগর হোসেন বলেন, ‘প্রার্থীদের প্রচারণায় এখন ভিন্নতা আসছে। সবাই ভোট চাইতে আসছেন। নানা সংকটের বিষয়ে প্রশাসনকে তাঁরা প্রশ্ন করবেন, দাবি আদায়ে কাজ করবেন, এমন প্রতিশ্রুতি পাচ্ছি। তবে নির্বাচন যথাসময়ে হোক, একই সঙ্গে সবার মধ্যে যে আমেজ আছে, সেটা বজায় থাকুক।’

শাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘প্রচারণার সময়টা আন্দোলনের কারণে কমে যাওয়ায় এখন একটু ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। সবাই আগ্রহ প্রকাশ করছে। হঠাৎ প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটু সন্দেহ ও শঙ্কা কাজ করছিল। কিন্তু আবার পুরোদমে শুরু করেছি। ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

ছাত্রদল–সমর্থিত সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচারণার সময় এক দিন বৃদ্ধি করা ও এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিতেও এক দিন সময় দেওয়া উচিত। কারণ, সবার কাছে আমরা এখনো পৌঁছাতে পারছি না। আশা করি, নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তা নিশ্চিত করবে।’

শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রচারণার সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই।