ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্লীলতাহানির চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় শিশুকে শ্বাস রোধ করে হত্যা

শিশু নির্যাতনপ্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্লীলতাহানির চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় এক শিশু (৬) হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তি শিশুটিকে শ্বাস রোধ করে হত্যার দায় পিবিআইয়ের কাছে স্বীকার করেছেন। আজ শনিবার রাত আটটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই।

এর আগে গত বুধবার শিশুটি নিখোঁজ হয়। শুক্রবার লাশ উদ্ধারের পর শিশুটির মা থানায় হত্যা মামলা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ ওই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

শিশুটি সদর উপজেলার বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। গ্রেপ্তার ইছা মিয়া ওরফে ইসহাক (২৯) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অষ্টগ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে শিশুটি চিপস কেনার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোরগ ধরতে গিয়ে শিশুটির বাড়ির অদূরে গ্রামের একটি পতিত জমিতে বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পান। তিনি বিষয়টি শিশুটির পরিবারকে জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গায়ের কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও পিবিআই তদন্ত শুরু করে। শিশুটির গলায় শ্বাস রোধ করে হত্যার দাগ ও মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন থাকায় তার মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে শনিবার দুপুরে ইছা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় পিবিআইয়ের কাছে স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার দিন দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে শিশুটির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। পরে বেড়াতে যাওয়ার ও ঘোরানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে তিনি সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যান। সারা দিন ঘুরে রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে গ্রামে তাঁর বাড়িতে ফেরেন। সেদিন বাড়িতে তিনি একা ছিলেন। তাঁর স্ত্রী-সন্তান শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ইছা মিয়া এক পর্যায়ে শিশুটির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এতে শিশুটি কান্নাকাটি করে এবং বিষয়টি সবাইকে বলে দেবে বলে জানায়। এতে ইছা মিয়া আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে মুখ চেপে ধরে শিশুটিকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। তিনি গেঞ্জি দিয়ে নাক–মুখ চেপে ধরেন এবং প্রায় ২০ মিনিট গলা টিপে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর লাশ একটি সাদা নাইলনের বস্তায় ভরে নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখেন। গত বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে সুযোগ বুঝে পাশের বিলের পরিত্যক্ত জমিতে লাশ ফেলে দিয়ে আসেন। আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে হত্যায় ব্যবহৃত গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়।