গত বুধবার যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শুকনো খেত চাষ দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। খেতের মধ্যে একখণ্ড জমিতে আমনের বীজতলা। ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের (শ্যালো মেশিন) মাধ্যমে পানি দিয়ে বীজতলা ও খেত ভেজানো হচ্ছে।

কৃষক আইয়ুব হোসেন বলেন, কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামের মাঠে ১০ বিঘা জমিতে (প্রতি বিঘা ৩৩ শতক) আমন ধানের চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেও বৃষ্টির দেখা নেই। গত বছর এই সময়ে অনেক বৃষ্টি হয়েছিল। গত বছর বিঘাপ্রতি তিন হাজার টাকা সেচ খরচ হয়েছে। এমন অনাবৃষ্টি থাকলে এবার সাত হাজার টাকাতেও খরচ মেটানো মুশকিল হবে। ধান বিক্রি করেও খরচ উঠবে না।

যশোর বিমানবন্দরের আবহাওয়া শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর যশোরে ১ আষাঢ় থেকে ৫ শ্রাবণ পর্যন্ত ৩৫ দিনে ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত বছর এই সময়ে ৩৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সামনে এক সপ্তাহ প্রতিদিনই কমবেশি বৃষ্টি হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের ছয় জেলায় (যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা) এ বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৪ হেক্টর। গত ১ জুলাই থেকে রোপণ শুরু হয়েছে। চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রথম ২০ দিনে ৩ হাজার ৯২৩ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ হয়েছে। এর মধ্যে যশোর জেলায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমির বিপরীতে রোপণ হয়েছে ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর।

কৃষকেরা মূলত বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় রয়েছেন। খেতে বৃষ্টির পানি না জমলে তাঁরা রোপণ শুরু করতে পারছেন না। সদর উপজেলার দক্ষিণ ললিতাদাহ গ্রামের কৃষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ধানের আবাদ চলছে। নিজের সেচ পাম্প রয়েছে বলে আগাম চাষ শুরু করেছি। কিন্তু অনেকে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষায় আছেন। সেচ দিয়ে আমন ধানের আবাদ করতে গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাঁচবে না। আবার ধানের পাতার বয়স বেশি হলে ফলনও কমে যাবে। উভয়সংকটে রয়েছে কৃষক।’ যে কারণে এখনই সেচ ও অন্যান্য কৃষি উৎপাদনে সরাসরি কৃষকের মাঝে ভর্তুকির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমন ধান রোপণের মৌসুম সবেমাত্র শুরু হলো। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এক মাস ধান রোপণের ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। আমরা আশা করছি, এই সময়ে ভালো বৃষ্টিপাত হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন