গত বৃহস্পতিবার বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরে মিছিল বের করা হয়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যুবদলের কর্মী শাওন বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে নিহত হওয়ার ঘটনার ছয় দিন পর নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে মহানগর যুবদল প্রতিবাদে শোক র‍্যালি বের করল। এই কর্মসূচি বরফকল এলাকা থেকে শুরু হয়ে কিল্লারপুল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন ও সদস্য সচিব মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে শোক র‌্যালিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। এই কর্মসূচি চলাকালে যুবদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন—‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শাওনের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।’

শোক র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে গুলি করে যুবদলের কর্মী শাওনকে হত্যা করেছে। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেক নেতা–কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অসংখ্য নেতা–কর্মী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যুবদলের কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ আবার বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করছে। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন তাঁরা।

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ সরকার পুলিশের ওপর ভর করে বেশি দিন  ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। পুলিশ দিয়ে হামলা-মামলা, গুম ও হত্যা করে বিএনপির নেতা–কর্মীদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখা যাবে না। শাওন হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে মাঠে থাকবেন যুবদলের নেতা–কর্মীরা।’

শোক র‍্যালিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হক, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নূরে এলাহী সোহাগ, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম এ সাগর, শেখ মোহাম্মদ, আবুল হোসেন, বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব শাহাদুল্লাহ্ মুকুল, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি রাফি উদ্দিন, মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ খান, কায়সার আহমেদ, আরমান হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমানসহ যুবদলের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।  

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যুবদলের র‌্যালির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাওন প্রধানের মৃত্যু হয়। বিএনপি তাঁকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করে। বিএনপির মিছিলে অংশ নেওয়া শাওনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ শাওনকে যুবলীগের কর্মী দাবি করে মিছিল করেছে। শাওন মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ নিহত শাওনে বড় ভাই মিলন হোসেনকে দিয়ে বিএনপির পাঁচ হাজার নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলা বিএনপির ৭১ নেতা–কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭০০ থেকে ৮০০ নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপির ১০ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন