গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওসমানীনগরের পুরোনো উপজেলা ভবনের সামনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৪৪টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ২ বান্ডিল করে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় এসব ঢেউটিন বরাদ্দ দিয়েছে।

এই ওসি থানায় বসে দুর্নীতি করছেন, এমন নানা অভিযোগ আমার কাছে আছে। এই ওসি একজন দুর্নীতিবাজ।
মোকাব্বির খান, সংসদ সদস্য, সিলেট-২ আসন

ঢেউটিন বিতরণকালে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা, গণফোরামের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি চঞ্চল পাল প্রমুখ।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবারই ওসিকে সরকারি আয়োজনে ঢেউটিন বিতরণের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। গতকাল অনুষ্ঠানে তিনি প্রটোকলের কোনো গাড়ি পাঠাননি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রতি এমন অবজ্ঞাসূচক আচরণের বিষয়ে ওসির কাছে জানতে চাওয়া হয়। তখন প্রত্যুত্তরে ওসি জানান, তাঁর থানার দুটি গাড়ি নষ্ট এবং আরেকটি গাড়ি ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রটোকলে আছে।

মোকাব্বির খান আরও বলেন, ‘আমি তখন ওসিকে বলেছিলাম, এসব নষ্ট গাড়ি মেকানিক ডেকে দ্রুত সারান না কেন? উত্তরে ওসি বলেন, নষ্ট গাড়ি সারাতে হলে টেন্ডার করতে হবে। মেকানিক দেখানোর জন্য টেন্ডার দিতে হবে, এটা কেমন অজুহাত? গাড়ি কতটুকু বিকল কিংবা তা সারাতে কত টাকার প্রয়োজন, সেটা মেকানিক না দেখিয়ে হিসাব–নিকাশ না করেই ওসি টেন্ডারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন কেন? এই ওসি থানায় বসে দুর্নীতি করছেন, এমন নানা অভিযোগ আমার কাছে আছে। এই ওসি একজন দুর্নীতিবাজ।’

সংসদ সদস্যের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি এস এম মাঈন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রটোকলের গাড়ি না পাঠানোয় সংসদ সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে কথা বলেছেন। অথচ তাঁর প্রটোকলের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনাই আমাদের কাছে ছিল না। তিনি প্রটোকল পেলে ডিএসবির মাধ্যমে আমাদের কাছে প্রটোকলের নির্দেশনা আসার কথা। মূলত সে বিধিমালা অনুযায়ীই আমরা প্রটোকল দিই।’ তাঁর বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য যে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন, তা অসত্য বলেও ওসি দাবি করেন।

ওসি এস এম মাঈন উদ্দিন আরও বলেন, থানার চারটি গাড়ির মধ্যে একটি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে আছে। এ ছাড়া দুটি গাড়ি নষ্ট এবং অপর গাড়িটি ওই দিন ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রটোকলে ছিল। দুটি নষ্ট গাড়ি সারাতে প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ দুটি গাড়ির মধ্যে একটা বিকল গাড়ি এবং অপর গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে সিলেটে এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে। তাই এখন একটি গাড়ি দিয়েই প্রটোকলসহ জরুরি সেবা চালাতে হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন