তরুণের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফজলুল হক দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে থাকেন। তিনি ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শিশিরের পরিবারের কাছে দুবাই নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এ জন্য ওই তরুণের পরিবার ফজলুল হকের পরিবারের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে দেয়। পাঁচ মাস আগে তিনি ওই তরুণকে দুবাই নিয়ে যান। দুবাই পৌঁছানোর পর তাঁকে কোনো চাকরি বা কাজ দেওয়া হয়নি। ওই তরুণের কাছ থেকে পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে নেন তিনি। পরে ওই তরুণকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে আসেন ফজলুল হক। এরপর থেকে ওই তরুণের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই পরিবারের। ওই তরুণের পরিবার গত শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।

শিশিরের মা শিউলি বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক টাকা বেতনের চাকরি দেবে বলে ছেলেটারে বিদেশ নিল। কিন্তু কোনো চাকরি দেয়নি। ছেলের সঙ্গে মাসখানেক আগে একবার কথা হয়েছিল। ছেলেটা খুব কষ্ট আছে। দিনে একবার খাবার দেয়। একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখেছে। সব কাগজপত্র রেখে দিয়েছে। সেখানে আটকে রেখে প্রতারক ফজলুল হক বাড়িতে চলে আসছেন। আর চাকরির দরকার নাই। ছেলেটারে দেশে ফেরত চাই।’

ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় গ্রামে একটি সালিসও হয়েছে। আরও একটি সালিস হওয়ার কথা আছে। শুধু শিশির নয়, তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজনকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু বাড়িতে না থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এম ময়নুল ইসলাম বলেন, ওই তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গতকাল শনিবার গ্রামে গিয়েছিল পুলিশ। তাঁরা ঘটনাটির তদন্ত করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন