গোয়ালন্দে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় আজ সোমবার সকালে জেলেদের জালে প্রায় ২০ কেজি ওজনের বিপন্ন বাগাড় মাছ ধরা পড়ে। পরে সেটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া বাজারে নেওয়া হয়
ছবি: এম রাশেদুল হক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি বিপন্ন বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। আজ সোমবার সকালে জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

পরে মাছটি দৌলতদিয়া বাজারে রওশন মোল্লার মাছের আড়তে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে ২২ হাজার টাকায় বাগাড় মাছটি কেনেন। পরে তিনি মাছটি ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

যদিও বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বিপন্ন প্রাণী ধরা বা কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিলে বাগাড় মাছকে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় রয়েছে বাগাড় মাছ।

এ সম্পর্কে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরিফ বলেন, ‘বাগাড় একটি বিপন্ন মাছ। এই মাছ শিকার, বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা না আসায় ব্যবস্থা নিতে পারছি না। আগামী প্রজন্মের জন্য বড় মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম করা গেলে বংশবৃদ্ধিসহ বেশি পাওয়া যাবে।’

রেজাউল শরিফ আরও বলেন, বছরে নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশ মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে এ ধরনের মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া নদীতে পানি বাড়ার কারণে সামনে এমন বড় বড় মাছ নদীতে পাওয়া যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেবগ্রামের অন্তার মোড় এলাকার জেলে জমির হালদার ও তাঁর দল আজ সোমবার ভোরে নদীতে মাছ শিকার করতে যান। দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের অদূরে পদ্মা এবং যমুনা নদীর মোহনায় তাঁরা জাল ফেলেন। তাঁদের জালে ২০ কেজি ওজনের বাগাড় মাছটি ধরা পড়ে। সকাল ৭টার দিকে এটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ঘাট মাছের বাজারে আনা হয়। সেখানে আড়তদার রওশন মোল্লার ঘরে আনা হলে প্রকাশ্য নিলামে তোলা হয়। এ সময় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে শাহজাহান শেখ মাছটি কিনে নেন।

দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের মালিক শাহজাহান শেখ বলেন, ‘১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে মোট ২২ হাজার টাকায় বাগাড় মাছটি কিনেছি। বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে মুঠোফোনের মাধ্যমে লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ঢাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ীর কাছে ১ হাজার ১৫০ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।’