মনিরুজ্জামানের চাচা আমিনুর রহমান বলেন, আজ সকালে মনিরুজ্জামান সরকারি একটি কর্মশালায় যোগ দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে উপজেলা সদরের ভবানীগঞ্জে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাড়িটি দেউলা চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছালে সেখানে তল্লাশিচৌকিতে থাকা পুলিশ গাড়ির গতি রোধ করে। পরে পুলিশি পাহারায় গাড়িসহ মনিরুজ্জামানকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ১৯ নভেম্বর বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিল। ওই মামলায় মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করা হয়। তবে মনিরুজ্জামানের নাম এজাহারে ছিল না।

এদিকে পুলিশের আরেকটি দল চানপাড়ায় ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আক্তারুজ্জামানের বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক। তবে সেখান থেকে কাউকে আটক করেনি পুলিশ। এ ছাড়া উপজেলার তাহেরপুর এলাকায় বিএনপির একাধিক নেতার বাড়িতে পুলিশি অভিযানের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে আজ বুধবার সকাল থেকে উপজেলার মোহনগঞ্জ, দেউলা, গোডাউন মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখা গেছে। এসব তল্লাশিচৌকিতে রাজশাহীগামী বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে এসব তল্লাশিচৌকি থেকে কাউকে আটক করা হয়নি।

তল্লাশিচৌকির বিষয়ে ওসি বলেন, আগামী ৪ ডিসেম্বর বাগমারায় জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে যেন কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ঠেকাতে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামানকে সাজানো ও গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।