ফারজানা বেগম বলেন, জেলা প্রশাসক তাঁর মেয়েকে দেখতে শহর থেকে এসেছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই। তিনি তাঁর মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সন্ধ্যার দিকে জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে যায়। এদিকে প্রসবব্যথাও ক্রমশ বাড়তে থাকে। তাঁরা ঘরের খাটের ওপর অবস্থান নেন। পরে প্রতিবেশী এক ধাত্রীর সহযোগিতায় তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

সেই ভয়াল রাতের বর্ণনা করতে গিয়ে ফারজানা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী নদীতে মাছ ধরেন। ঝড়ের দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ঝড়ের ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের কথা শুনে ভয়ে আশপাশের অনেকেই ছুটতে থাকেন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। বেড়িবাঁধের কাছের এ বাড়িতে তিনি ছাড়া ছিল তিন ছেলে আর শাশুড়ি। বিকেল থেকে একটু একটু করে প্রসবব্যথা হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর তা বেড়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে যায়। হাঁটুপানিতে প্লাবিত হয় ঘরের মেঝে। তখন তাঁরা ঘরের খাটের ওপর অবস্থান নেন। এদিকে প্রসবব্যথাও ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরে প্রতিবেশী এক ধাত্রীর সহযোগিতায় তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এ ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁরা মেয়ের নাম রাখেন সিত্রাং।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কের মধ্যেও একজন অন্তঃসত্ত্বা মা যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, সেটিকে তাঁরা সাধুবাদ জানান। প্রত্যেকটি নারী যাতে এ রকম সাহসী হন। তিনি বিষয়টি জানার পর শিশুটিকে দেখতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সঙ্গে করে কিছু উপহার সামগ্রী নিয়ে এসেছেন। ভবিষ্যতে শিশুটির পড়ালেখাসহ অন্যান্য বিষয়ে খোঁজখবর রাখা ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইশরাত সাদমীন, হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সেলিম হোসেন, হরণী ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের রাতে শিশুর জন্ম হওয়ার খবর শুনে তিনি পরদিন সকালেই ওই বাড়িতে যান। তিনি শিশুটির পরিবারকে নগদ কিছু আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন মা যে কঠিন বিপদের মুহূর্তে কতটা সাহসী হতে পারেন, এই মা তার বড় উদাহরণ।