চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা শোভন কুমার বসাক প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনকে ভর্তি করা হয়। আটজনের ক্ষত গুরুতর না হওয়ায় তাঁদের ভর্তি করা হয়নি। কিন্তু বাকি দুজন গুরুতর আহত হওয়ায় ভর্তি করা হয়েছে। এখন তাঁরা হাসপাতালে নেই কেন, সেটি খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।

উপজেলার যুবদলের সভাপতি আশরাফুর রহমান অভিযোগ করেন, যুবলীগ আহত ব্যক্তিদের আবারও মারধর ও পুলিশ দিয়ে আটক করিয়ে নেওয়ার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল ঘেরাও করে যুবলীগ কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। তখন প্রাণনাশের হুমকি দেন তাঁরা। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতাল থেকে আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উপজেলার হাজারীগ়ঞ্জ ইউনিয়নের চর ফকিরা গ্রামের যুবদল কর্মী আবদুর রহমান (২৭) গতকাল যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। তিনি বলেন, ইটের আঘাতে তাঁর শরীরের অনেকখানি কেটে যায়। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে যুবলীগের কর্মীরা বাধা দেন। এ জন্য গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়েছেন। তাঁর জখমে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে ফেরার পর কয়েকবার বমিও হয়েছে। এর মধ্যে শরীরে জ্বর আছে। ভয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

হাজারিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তাঁর ইউনিয়নের শতাধিক যুবদল নেতা-কর্মী চরফ্যাশন শহরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে যুবলীগের কর্মীদের এলোপাতাড়ি হামলা ইটপাটকেলের কারণে অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ হয়। বাড়িতে ফেরার পথে হাজারিগঞ্জে যুবদল কর্মী আবদুর রহমান, ইমন, বেল্লালকে পিটিয়ে আহত করা হয়। তাঁরা সবাই স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভয়ে হাসপাতালে যেতে পারেননি।

যুবদল নেতা-কর্মীদের এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল এমরান। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ অসত্য। তাঁরা এখন ত্রাণমন্ত্রীর আগমন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। এতে সংগঠনটির অন্তত ৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুবদল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের বাসভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় সেখানে একটি আলোচনা সভা হয়। সভা শেষে নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হলে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান।

তবে অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা শহরে ছিলাম এটা সত্য, কিন্তু আমাদের কমিটি গঠন নিয়ে জরুরি সভা করতে হয়েছে। এ সময় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য দেওয়া হয়। শুনেছি, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম পক্ষ ও নয়ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তারা দুই পক্ষই বিএনপি। এখানে যুবলীগের কোনো ভূমিকা নেই।’

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরাদ হোসেন বলেন, শহরের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে হাসপাতালসহ শহরের কয়েকটি স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।