বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর শহরে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শহরের ঝিলটুলি মহল্লার পানির ট্যাংকি মোড় এলাকার জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ মিছিল হয়।
এ–সংক্রান্ত ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২২ জন কর্মী ব্যানার হাতে মিছিল করছেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতারা যে ব্যানারটি বহন করেন তাতে লেখা ছিল, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই; ফরিদপুরের মাটি, শেখ হাসিনার ঘাঁটি’। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ‘শুভ শুভ শুভদিন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’, ‘গোলটেবিল না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘তামজিদুল রশীদ চৌধুরী’–তে মিছিলের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। আজ সকাল দশটার দিকে ভিডিওটি পোস্ট করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে তামজিদুল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের শর্ট নোটিশে আনন্দমিছিল। সময় সকাল: ৭:০০। স্থান: ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ঝিলটুলি মডেল স্কুল রোড।’
ভিডিওটিতে দেখা যায়, মিছিলের সামনের সারিতে রয়েছেন সভাপতি তামজিদুল রশীদসহ পাঁচ কর্মী। তাঁদের মধ্যে দুজনের মুখ মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল। মিছিলকারীরা পানির ট্যাংকির মোড় থেকে মিছিলটি শুরু করে জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গিয়ে সটকে পড়েন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আজ ভোররাতে আমরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সাহ্রি বিতরণ করেছি। সকালে আমরা আনন্দমিছিল বের করি। এ মিছিলে ৫০ জনের মতো কর্মী ছিল। এ ছাড়া ২০ জনের মতো কর্মী মিছিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মোড়ে ওয়াচম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের এভাবে প্রকাশ্যে মিছিলের সুযোগ নেই। আমরা মিছিলের ভিডিও হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করে।