অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ডুবছিল নৌযান, উদ্ধার করল নৌবাহিনীর জাহাজ, আটক ১১
সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ডুবে যাচ্ছিল একটি নৌযান। জেলেদের মাধ্যমে খবর পেয়ে নৌযানটি থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী। এর মধ্যে মানব পাচারে জড়িত অভিযোগে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাতিঘর থেকে প্রায় ৮১ কিলোমিটার দূরে (পশ্চিমে) বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় এ ঘটনা ঘটে।
নৌবাহিনী জানায়, নৌযানটিতে ৭৬ জন ছিলেন। এর মধ্যে ৬৫ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে নৌযানটিতে তোলেন পাচারকারীরা। এর আগে তাঁদের কাউকে ভালো চাকরির প্রলোভনে, কাউকে অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখা হয়। পরে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড উপকূল হয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে নৌযানটিতে তোলেন পাচারকারীরা।
বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে কাঠের নৌযানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর সেটি ভাসতে থাকে। একপর্যায়ে ভেতরে পানি ঢুকে ডুবতে শুরু করে নৌযানটি। এর মধ্যে জেলেদের মাধ্যমে খবর পেয়ে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌযানটির যাত্রীদের উদ্ধার করে।
নৌযান থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় খাবার ও মানবিক সহায়তা দেয় নৌবাহিনী। পরে যাচাই-বাছাই করে তাঁদের মধ্যে থাকা ১১ পাচারকারীকে আটক করা হয়। পানি সরিয়ে ডুবতে থাকা নৌযানটিও জব্দ করে নৌবাহিনী। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক ১১ মানব পাচারকারী এবং জব্দ করা নৌযান টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।