অভিযুক্ত বরকত জামান পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বাগপুর গ্রা‌মের মৃত ত‌বিজুল ইসলা‌মের ছে‌লে। আরেক অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম দিনাজপুর সদর উপ‌জেলার রাজারামপুর গ্রা‌মের ম‌তিউর রহমা‌নের ছে‌লে।

দিনাজপুর জেলা পু‌লি‌শের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বু‌থ থে‌কে গ্রাহক‌দের জমা দেওয়া টাকা উত্তোল‌ন ক‌রে অরনেড নামের তৃতীয় পক্ষের এক‌টি প্রতিষ্ঠা‌ন। টাকা উত্তোল‌নের সময় বু‌থের ব্যবস্থাপক ও অরনে‌ডের কর্মকর্তারা পৃথক গোপন নম্বর ব্যবহার ক‌রে টাকা উত্তোলন ক‌রেন। বরকত জামান কয়েক বছর ধ‌রে ওই বু‌থে চাকরি করছেন। এক বছর ধ‌রেই তিনি সি‌ডিএম মে‌শিন থে‌কে টাকা চু‌রির প‌রিকল্পনা ক‌রে আস‌ছি‌লেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছয় মাস আগে তিনি বিকাশের স্থানীয় এক এজেন্ট রেজাউলের সঙ্গে সখ্য গ‌ড়ে তো‌লেন। সপ্তাহখা‌নেক আগে রেজাউল‌কে অরনে‌ড নামের ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাই‌য়ে দেন বরকত। তবে তিন দিন কাজ ক‌রে বেতন কমের অজুহা‌ত দিয়ে রেজাউল চাকরি ছা‌ড়েন।

শুক্রবার রা‌ত আটটার দিকে বু‌থে দ্বিতীয় শিফ‌টে দা‌য়ি‌ত্বে আসেন প্রহরী রা‌শেদ ইকবাল। এ সময় বরকত কৌশলে রা‌শেদ‌কে দিয়ে নাশতা আন‌তে পা‌ঠান। এই সুযোগে প্রহরী রাশেদের টি‌ফিন ক্যা‌রিয়া‌রে রাখা ভা‌তের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মি‌শি‌য়ে দেন বরকত। পরে নাশতা খে‌য়ে বরকত অফিস থে‌কে বের হ‌য়ে যান। রাত ১০টায় রেজাউলকে নিয়ে বরকত আবার বু‌থে ফিরে আসেন। এ সময় প্রহরী রাশেদ ভাত খে‌য়ে ঘু‌মিয়ে ছিলেন। রেজাউল ও বরকত প্রথ‌মে বু‌থের সিসিটিভি ক্যা‌মেরার ভিডিও রেকর্ডিং যন্ত্রটি (ডিভিআর) স‌রি‌য়ে ফে‌লেন। প‌রে তাঁরা দুজন মিলে সিডিএম মেশিন থেকে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা চু‌রি ক‌রে পালিয়ে যান।

জিজ্ঞাসাবা‌দে অভিযুক্ত দুজন বলেন, টাকা চুরির পর সি‌সিটিভি ক্যামেরা ডি‌ভিআরটি তাঁরা শহ‌রের মাতাসাগর এলাকায় পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে ফে‌লে দেন। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ভাঙা অবস্থায় ডি‌ভিআর‌টি উদ্ধার ক‌রে‌ছে। দুজনের বা‌ড়িসহ বেশ ক‌য়েক‌টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ ক‌রা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি টাকা বরকত ব্যাংকে জমা রেখেছেন। ব্যাংকে টাকা জমার ওই রসিদও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অতি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার আসলাম উদ্দিন ব‌লেন, চু‌রি হওয়া পু‌রো টাকাই উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে। এ বিষয়ে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।