ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার, পালিয়েছেন ছেলে

লাশ উদ্ধারপ্রতীকী ছবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে মাকে হত্যা করে নিজ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামের ওই নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন।

নিহত মারুফা বেগম ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল ইসলাম (৩৫) পেশায় ভ্যানচালক।

জুয়েল ইসলামের ছোট ভাই লাবিন ইসলাম জানান, তিনি পোশাককর্মী হিসেবে ঢাকায় কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। শ্বশুরবাড়ি থেকে গতকাল নিজ বাড়িতে ফেরার পর মাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরের মেঝেতে ফাটল দেখতে পান, বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পান। এতে তাঁর সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, লাশের মাথার সামনে বাঁ দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে ওই নারীকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় নিহত নারীর ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনার জন্য তাঁর বড় ভাই জুয়েল ইসলামকে সন্দেহ করছেন। যদিও মামলায় আসামিকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করা হয়েছে। জুয়েল পলাতক। প্রাথমিকভাবে তাঁর স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় আনা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মারুফা বেগমের বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।