পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভাবনহাটি গ্রামের বসতবড়ির সীমানা নিয়ে ইউনুস আলীর সঙ্গে বড় ভাই কুসুম আলীর (৭০) বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে আগেও একাধিকবার ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। আজ সকালে দুই ভাইয়ের বাড়ির সীমানার বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটতে যান ইউনুসের স্ত্রী। এ নিয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়।

একপর্যায়ে বড় ভাই কুসুম আলী ও তাঁর পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ইউনুস ও তাঁর স্ত্রী সাফিয়া আক্তারের ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁরা ইউনুসকে লাঠি দিয়ে পেটান। একপর্যায়ে ইউনুস মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর স্ত্রীও লাঠির আঘাতে আহত হন। পরে প্রতিবেশীরা ইউনুসকে উদ্ধার করে পাশের মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ইউনুসের স্ত্রীকে।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এক সপ্তাহ আগেও দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় গ্রামে সালিস বসার কথা ছিল। কিন্তু সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে বড় ভাই ও তাঁর পরিবারের লোকজনের হামলায় ছোট ভাই নিহত হন।

খবর পেয়ে সাটুরিয়া থানার পুলিশ সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে ধামরাই থানার এসআই নিউটন মৃধা বলেন, বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জের ধরে হামলায় ওই ব্যক্তি মারা গেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হবে।