চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ
তিন দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে আহত ইমতিয়াজ, মামুন-নাইমুলের অবস্থার উন্নতি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ইমতিয়াজ আহমেদ তিন দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। নগরের পার্কভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) গত রোববার রাতে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
হাসপাতালটির আইসিইউতে কর্মরত এক চিকিৎসক আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ইমতিয়াজের কনশাস লেভেল এখনো ১৫-তে ৬/৭–এর মতো। তাঁর রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আজ দুপুরে নগরের পাঁচলাইশে অবস্থিত হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, আইসিইউর সামনে বসে রয়েছেন ইমতিয়াজের বাবা আমির হোসেন ও মা শাহানাজ আমিন। কিছুক্ষণ পরপর স্বজনেরা ফোন করে শাহানাজ আমিনের কাছ থেকে ছেলে ইমতিয়াজের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন।
ইমতিয়াজের বাড়ি কুমিল্লায়, তবে তাঁর পরিবার থাকে বগুড়ায়। ছেলে আহত হওয়ার খবর পেয়ে সেখান থেকে গতকাল সোমবার সকালে তাঁর মা–বাবা চট্টগ্রামে এসেছেন। ইমতিয়াজের বাবা আমির হোসেন বলেন, দুপুরে চিকিৎসক ইমতিয়াজের শারীরিক অবস্থার কথা তাঁদের বর্ণনা করেছেন। ছেলে সুস্থ হয়ে ফিরবেন সেই অপেক্ষায় আইসিইউর সামনে তাঁদের দিন কাটছে।
ছেলের জন্য দোয়া চেয়ে শাহানাজ আমিন বলেন, ‘আমি চাই আমার ছেলেটা সুস্থ হয়ে যাক। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিচারও চাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি, তাদের গাফিলতির কারণে এতগুলো শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কোটি টাকা দিলেও তো আমার ছেলেকে আগের মতো সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাব না।’
রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ছেলে আহত হওয়ার খবর পান জানিয়ে শাহানাজ আমিন বলেন, ওই দিন বেলা দুইটার দিকেও ছেলে ইমতিয়াজের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। ইমতিয়াজ আহত বন্ধুদের নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি।
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় অনেক জানিয়ে ইমতিয়াজের মা–বাবা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে বলেছে চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে। কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিশ্রুতি রাখবেন সেটি তাঁরা চান।
রোববার সংঘর্ষের সময় ইমতিয়াজের মাথায় ধারালো অস্ত্রের জখম হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। পার্কভিউ হাসপাতালে একই সময়ে তাঁর সঙ্গে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় আহত আরেক শিক্ষার্থী মামুন মিয়াকে। তাঁরও মাথার খুলিতে জখম রয়েছে। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গতকাল বিকেলে সমাজতত্ত্ব বিভাগের এই শিক্ষার্থীর লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়, তবে তাঁকে আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় নাইমুল ইসলাম নামের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে রোববার ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে রাত ১০টায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
নাইমুলের সঙ্গে থাকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হাজারী আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার নাইমুলের অস্ত্রোপচার হয়েছে। সে খাওয়াদাওয়া করছে কিছুটা। তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে রয়েছেন।