শহীদ মিনার ঘুরে বইমেলায়

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জিমনেশিয়াম মাঠে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ফয়েজ সকাল সকাল বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে শহীদ মিনার গেছে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এরপর সোজা বইমেলায়। বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে ছড়া ও কার্টুনের বই দেখছে সে। ছোট ফয়েজ বলে, ‘বই কিনতে এসেছি শহীদ মিনার থেকে।’

নীল–সাদা স্কুল পোশাক পরিহিত কয়েকজন কিশোরীও ছুটছে এই দোকান থেকে ওই দোকানে। বই দেখার পাশাপাশি ছবিও তুলছে অপর্নচরণ সিটি করপোরেশন উচ্চবিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীরা। তারাও এসেছে শহীদ মিনার থেকে।

চট্টগ্রামের জিমনেশিয়াম মাঠের বইমেলায় সকাল থেকেই আসতে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ
ছবি: প্রথম আলো

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জিমনেশিয়াম মাঠে বইমেলার দুয়ার খুলেছে সকাল ১০টায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এই নিয়ম মেনে চলে মেলা কর্তৃপক্ষ। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের চেয়ে আজ সকালে মেলায় দর্শনার্থী তুলনামূলক বেশি বলে জানান প্রকাশক ও দোকানিরা। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকে বন্ধু–বান্ধব ও প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছেন। সংগ্রহ করছেন পছন্দের বই।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) জ্যেষ্ঠ নির্বাহী রাহুল মজুমদার বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মেলায় সকালে লোকসমাগম তুলনামূলক বেশি হয়েছে। আশা করি, বিকেলে আরও বাড়বে। শহীদ মিনার থেকে অনেকে এখানে চলে আসছেন।’

মেলার বাতিঘর, প্রথমা প্রকাশন, ঐতিহ্য, খড়িমাটিসহ বিভিন্ন দোকানে পাঠকদের ভিড় দেখা গেছে। বেশির ভাগ পাঠক কিশোর থেকে যুবক বয়সী। তাদের গায়ে একুশের প্রতীকি কালো-সাদা পাঞ্জাবি, নয়তো শাড়ি। স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা এসেছে ইউনিফর্ম পরে।

কলেজছাত্রী তাসনুভা বলেন, ‘শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে মেলায় চলে এসেছি। দু–একটি পছন্দের বই কিনব। তারপর বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দেব।’

মেলার প্রথমা প্রকাশনে কর্তব্যরত প্রথমা বন্ধুসভার সদস্য ইরফাতুর রহমান বলেন, সকাল সকাল নারী পুরুষ মেলায় এসেছে। তা অন্যদিনের চেয়ে বেশি। প্রথমার দুটি বই খুব চলছে বলেও জানালেন ইরফাতুর। এগুলো হলো—বিশ্বজিৎ চৌধুরীর উপন্যাস আশালতা ও মইনুল এইচ সিরাজীর বাশার স্যারের বাকি রহস্য।