আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুর রহিমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে লাশ কাটা ঘরের সামনে আবদুর রহিমের মা ফখরুন নেছা (৬৫) বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বলছিলেন, ‘ও আমার জাদুরে, ও আমার বাজানরে, তুমি কী আর আমার কোলে ফিরা আইবা না।’

ভোলা পৌরসভার গোরস্তান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আবদুর রহিমের জানাজা হয়। জানাজা শেষে লাশ যখন ভোলা শহর থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কোড়ালিয়া গ্রামে নেওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে তোলা হচ্ছিল, তখন ফখরুন নেছা দুই হাত তুলে বলছিলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করি নয়, আমার বুহের শিশু কোনো অপরাধ করে নয়, হ্যার পরেও আমার পুতেরে মাইররা যে বা যারা খুশি অইছে, আল্লাহ আমনে ছাড় দিয়েন না।’

আবদুর রহিমের বাবা হারেছ মাতব্বর শারীরিকভাবে অচল। পুত্রের শোকে আরও অচল হয়ে পড়েছেন। তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন। ছেলের লাশের কাছে আসতে পারেননি। তাঁরা চার ভাই, দুই বোন ছিলেন। ভাইদের মধ্যে আবদুর রহিম সবার ছোট।

default-image

আবদুর রহিমের মৃত্যুতে স্ত্রী খাদিজা বেগম (২৬) চার সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বড় ছেলে ইয়াছিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারপর মেয়ে জান্নাত, ছেলে আবদুল্লাহ ও ওসমান। সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট ওসমানের বয়স দুই বছর। সংসারে আয় করার মতো একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন আবদুর রহিম। বার্ষিক জমি লগ্নি নিয়ে, কখনো বর্গায় সবজির চাষ করতেন। তাঁর অবর্তমানে কীভাবে সংসার চলবে, কীভাবে সন্তানেরা বড় হবে, এ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই খাদিজার। স্বামী হত্যার বিচার চেয়েছেন তিনি।

জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, আবদুর রহিম বিএনপির ডাকেই গ্রাম থেকে শহরে সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। সমাবেশে এসেই পুলিশের নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। পুলিশ তাঁকে গুলি করে ফেলে দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে মেরেছে। অবশ্যই আবদুর রহিমের পরিবারের জন্য কিছু করা হবে, যেন তাঁর পরিবার ভালো থাকে, সন্তানেরা লেখাপড়া করতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন