১৩ মাসের বাচ্চাকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি, দাদা-দাদিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি শিশুকে বিক্রি করে পাচারের অভিযোগে দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালেছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ১৩ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির বাবা-দাদাসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে। পরে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আজ বুধবার ভোরে শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে আজ সকালে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটি বর্তমানে পুলিশের কাছে আছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার বাসিন্দা ও শিশুটির দাদা উজ্জ্বল মিয়া (৫০), দাদি আয়শা খাতুন (৪৫), ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে বাদী রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে গ্রেপ্তার উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাঁদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শিশু মোজাহিদ দাদার বাড়িতেই ছিল। রোজিনা পরে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিশুটিকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোজিনা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ছেলের বিষয়ে জানতে চান। তখন তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা রোজিনা বেগম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশের তদন্তে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত হয়। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন প্রথম আলোকে বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটি উদ্ধার হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে লালনপালনের জন্য তাঁরা নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁদের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘শিশুটি নিরাপদে আমাদের কাছে রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’