বরগুনা শহরে ১৮ মাস পর প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

বরগুনা শহরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালেছবি: সংগৃহীত

বরগুনা শহরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৮ মাস পর বরগুনা শহরে প্রকাশ্যে মিছিল করল ছাত্রলীগ। এর আগে ২২ মার্চ বেতাগী উপজেলায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে ‘ঈদ পুনর্মিলনী’র আয়োজন করা হয়, যাতে সংগঠনটির কয়েক শ নেতা–কর্মী অংশ নেন।

আজকের মিছিলে নেতৃত্ব দেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ফাহাদ হাসান (তানিম) ও বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম (ফাহাদ)। সকাল পৌনে ৯টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়। শহরের বেশ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সকাল ৯টায় শহরের রাসেল স্কয়ারে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। এতে ছাত্রলীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অর্ধ শতাধিক নেতা–কর্মী অংশ নেন।

মিছিল শেষে এক ভিডিও বার্তায় ফাহাদ হাসান বলেন, ‘দেশের সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তাই দেশের ও মানুষের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে জেলা ছাত্রলীগ বদ্ধপরিকর।’

২২ মার্চ বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রলীগের বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল কবির। ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বেতাগী থানা–পুলিশ তখন বলেছিল, ভিডিওটি অনেক আগের।

প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ মিছিল করার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ এভাবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালানোর পেছনে প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করেছে বলে আমরা মনে করি। বরগুনা–১ আসনে যে এমপি রয়েছেন, তাঁরও প্রচ্ছন্নতায় আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হচ্ছে—এমনটাই রিপোর্ট আসছে আমাদের কাছে। বিএনপি একটি সর্ববৃহৎ দল, সে জন্যই আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারি না। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের যে মিছিল দেখা যাচ্ছে, সেই ভিডিও দু–তিন দিন আগে ধারণ করা। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ তারা এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছি।’