প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোনো আনোয়ার হোসেন বছর দুই আগেও ছিলেন শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমনচালক। আলাপকালে তিনি বললেন, ছয়-সাত বছর আগে থেকেই জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়রামপুর গ্রামের দুধ জ্বাল দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত পোড়ানো কাঠের কয়লা ঢাকার বিভিন্ন কারখানায় যায়। সে সময় তিনি কারখানার মালিকদের কাজে সহযোগিতা করতেন। কখনো তাঁর বাড়িতেই কারখানার মালিকেরা কয়লা মজুত রাখতেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারি চলাকালে ঢাকার কারখানার মালিকেরা কুমারখালী আসা বন্ধ করে দেন। এই ফাঁকে নিজের দূরদর্শিতা কাজে লাগিয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের তারাপুর বাজার এলাকায় প্রায় ১০ শতাংশ জায়গা ভাড়া নিয়ে পোড়া কয়লার ব্যবসা শুরু করেন। সে সময় তাঁর কোনো পুঁজি ছিল না। গ্রামের এক মহাজনের কাছ থেকে মাসিক ১০ শতাংশ সুদে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

আনোয়ারের কয়লার ব্যবসার ব্যবস্থাপক শাজাহান আলী বলেন, এখানে কাজ করে খুব ভালো লাগে। প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা পান। এখানে আরও কয়েকজন কাজ করে তাঁদের সংসার চালান।

আনোয়ার গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের এক বস্তা কয়লা কেনেন ২৫০ টাকায়। সেই কয়লা পরিবহন, শুকানো ও মজুতের স্থান ভাড়া, শ্রমিকদের মজুরিসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয় আরও ১০০ টাকা। আর প্রতি বস্তা কয়লা বিক্রি করেন প্রায় ৫০০ টাকায়। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দুই হাজার বস্তা কয়লা বিক্রি করেন। এতে তাঁর খরচ হয় প্রায় আট লাখ টাকা এবং বিক্রি করেন প্রায় ১০ লাখ টাকায়। খরচ বাদে প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

বর্তমানে আনোয়ারের কাজে দুজন নারীসহ মোট আটজন শ্রমিক সহযোগিতা করছেন। একজন নারী শ্রমিক প্রতিদিন ৩৫০ টাকা মজুরি পান আর পুরুষ শ্রমিকেরা মজুরি পান ৪৫০ টাকা। ভ্যানগাড়িসহ শ্রমিক রয়েছেন দুজন। তাঁরা প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে মজুরি পান। কয়লার পাশাপাশি তিনি ধান থেকে চিড়া তৈরির কারখানা করেছেন। সহজ শর্তে সরকারি ঋণ বা সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে করতে চান কয়লার ব্যবসা। নির্মাণ করতে চান একটি ধান থেকে মুড়ি তৈরির মিল।

কয়লা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমে ব্যবসা ছোট ছিল। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। এখন প্রতি মাসে প্রায় দুই হাজার বস্তা কয়লা বিক্রি করছেন। খরচ বাদে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা আয় করছেন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, কয়লা উদ্যোক্তাকে সরকারি ঋণসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।