পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব প্রথম আলোকে বলেন, ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে আটক করে থানায় আনা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা বাদী মামলা করেছেন। আজ মঙ্গলবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী বিদ্যালয়ের কাজে অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের কক্ষে যেত। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে অশ্লীল কথাবার্তা বলতেন ও কৌশলে ছাত্রীদের গায়ে হাত দিতেন। লজ্জায় বিষয়টি কাউকে কিছু বলত না ছাত্রীরা। সপ্তাহখানেক আগে দুই ছাত্রীর সঙ্গে একই আচরণ করেন তিনি। ঘটনাটি ওই দুই শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের জানায়। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা ভেবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ আছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। গতকাল বিকেলে পাঁচবিবি সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ইশতিয়াক আলম ও থানার ওসি পলাশ চন্দ্র দেব ওই বিদ্যালয়ে যান। নারী পুলিশ সদস্যরা কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে যৌন হয়রানির সত্যতা পান। এরপর পুলিশ অফিস সহকারীকে বিদ্যালয় থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার বানু প্রথম আলোকে বলেন, এক সপ্তাহ আগে এক ছাত্রীর অভিভাবক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে যৌন হয়রানির কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন তিনি ছুটিতে ছিলেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে সেই সভা করা যায়নি। ওই ঘটনায় গতকাল বিদ্যালয়ে সভা চলছিল। তখন পুলিশ এসে চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে যৌন হয়রানির সত্যতা পায়। এরপর অফিস সহকারী জাহাঙ্গীরকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।

ওই বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম ১০-১৫ ছাত্রীকে বিভিন্ন কৌশলে যৌন হয়রানি করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে বিষয়টি জানানোর পরও তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। অভিভাবকেরা বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানান। পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এরশাদুল হক বলেন, ‘আমরা ছাত্রীদের সঙ্গে অফিস সহকারী জাহাঙ্গীরের বাজে আচরণের বিষয়টি কিছুই জানতাম না। সপ্তাহখানেক আগে এক ছাত্রীর অভিভাবক বিষয়টি আমাদের জানান। আমরাও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন