তামান্না আক্তার বলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই, তা নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। আমি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে পড়তে চাই। আমি এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হতে চাই।’

জন্মের পর থেকে তামান্নাকে নিয়ে মায়ের লড়াই শুরু হয়। তবে সে লড়াইয়ে তিনি হারতে চাননি। সেই গল্প পুনরায় বললেন খাদিজা পারভীন, ‘২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্নার জন্ম। ওর জন্মের পর কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে ভেবেছি, ওকে কারও বোঝা হতে দেওয়া ঠিক হবে না। ছয় বছর বয়সে ওর পায়ে কাঠি দিয়ে লেখানোর চেষ্টা শুরু করি। কলম দিই। কাজ হয় না। এরপর মুখে কলম দিই। তাতেও কাজ হয়নি। পরে সিদ্ধান্ত নিই, ওকে পা দিয়েই লেখাতে হবে। এরপর বাঁকড়া আজমাইন এডাস স্কুলে ভর্তি করাই। মাত্র দুই মাসের মাথায় ও পা দিয়ে লিখতে শুরু করে। এরপর ছবি আঁকা শুরু করে।’

এ বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান তামান্না। বৃত্তিও পান। পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর তামান্নাকে বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে জেএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পান। ২০১৯ সালে তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। এরপর তাঁকে বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে এইচএসসিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি।

তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, ‘তামান্নার জন্মের পর থেকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের। তারপরও হাল ছাড়িনি। তামান্নার সঙ্গে আমাদের থাকতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির গুচ্ছ পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ জন্য আমি খুব খুশি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তামান্না লেখাপড়ার সুযোগ পেলে আরও খুশি হব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন