পরতে পরতে সংকট, দুর্ভোগ

এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি পদ শূন্য। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এক্স-রে যন্ত্র বিকল। এখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওয়ার্ডের মেঝেতে শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। ১২ এপ্রিল তোলা
ছবি: প্রথম আলো

গাইনি-বিশেষজ্ঞ নেই। নেই অবেদনবিদও। চিকিৎসকের অধিকাংশ পদই শূন্য। হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্র দেড় যুগ ধরে বিকল। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। টেকনিশিয়ানের বেশির ভাগ পদ শূন্য। তাই বাইরে থেকে বেশি টাকা খরচ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়। এসব কারণে এখানে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ওয়ার্ড ও শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না।এই দুরবস্থা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখানে অনুমোদিত চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে ১১টিই শূন্য। এর মধ্যে কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞের ১০টি পদ (শিশু, সার্জারি, কার্ডিওলজি, গাইনি, শিশু, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, অর্থোপেডিক, নাক,কান ও গলা, অ্যানেসথেশিয়া) পদ রয়েছে। এ ছাড়া একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা (আয়ুর্বেদিক) পদও শূন্য। সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৯টি পদে কেউ নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৫টি পদ থাকলেও কর্মরত দুজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০০৪ সালের এখানে একটি এক্স-রে যন্ত্রটি বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। চালু হওয়ার কয়েক দিন পরেই যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যায়। ইসিজি যন্ত্র থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় সেটি চালানো হচ্ছে না। শুরু থেকেই এখানে আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র নেই।

গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের চতুর্থ তলায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ৪৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড এবং কেবিনের শৌচাগারের অবস্থা খুবই খারাপ। দরজা-জানালা ভাঙাচোরা। যত্রতত্র ময়লা আর্বজনার স্তূপ। শৌচাগারের পানির কলগুলো কাজ করছে না।

বহির্বিভাগেও শতাধিক রোগী ভিড় করেছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোগীকে এক্স-রে, রক্ত ও মল-মূত্র পরীক্ষা করানোর জন্য সুপারিশ করেছেন চিকিৎসক।

কয়েক দিন আগে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঝাটিবুনিয়া জেআর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন। এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান খুবই খারাপ। হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ রোগীদের বরিশাল অথবা জেলা শহর পটুয়াখালীতে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. জাবির হোসেন বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। শয্যাসংখ্যা ৫০ হলেও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গড়ে ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বাধ্য হয়ে মেঝেতেও চিকিৎসা নেন রোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং বলেন, কয়েক মাস আগে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি এক্স-রে মেশিন আনা হয়েছে। কিন্তু এটি চালু করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, শৌচাগার, দরজা-জানালা ও নালার অবস্থা খারাপ। ঠিকাদারের লোকজন ইতিমধ্যে এগুলো সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন।