খেলা নিয়ে বিরোধ, ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে মামার বাড়িতে ভাঙচুর

ঘরের বেড়ায় ব্যাপক ভাঙচুরের ক্ষত। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়নের কুশলীবাসা স্কুলপাড়ার মহিদুল ইসলামের বাড়িতেছবি: প্রথম আলো

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফুটবল খেলা নিয়ে ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে তাঁর মামার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কুশলীবাসা গ্রামের স্কুলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই ছাত্রদল নেতার নাম মো. শিমুল পারভেজ। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের কুশলীবাসা গ্রামের স্কুলপাড়ার কৃষক মহিদুল ইসলামের ভাগনে। প্রায় ৯ বছর ধরে মামাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছেন শিমুল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুশলীবাসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কুশলীবাসা স্পোর্টিং ক্লাবের নামে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন ছাত্রদল নেতা শিমুল পারভেজ, তাঁর মামাতো ভাই আকাশসহ তাঁদের সমর্থকেরা। এ নিয়ে পাশের ছাগলাপাড়ার শাহিন, মিতুল ও লিখনদের বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে গতকাল বিকেলে পথিমধ্যে প্রতিপক্ষের আলম শেখকে মারধর করেন ছাত্রদল নেতা শিমুলের সমর্থকেরা। এরপর রাত নয়টার দিকে ছাগলাপাড়ার ১৫০ থেকে ২০০ জন শিমুলের মামাবাড়িতে হামলা চালান।

স্বজনদের অভিযোগ, ফুটবল খেলা নিয়ে কুশলীবাসা গ্রামের ছাগলাপাড়া এলাকার শাহিন আলী, মিতুল ও লিখন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ গতকাল রাতে আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় তিন লাখ টাকা, একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার, ছয় বস্তা ধান লুটপাট করেছেন হামলাকারীরা। সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘরের বেড়ায় ব্যাপক ভাঙচুরের ক্ষত
ছবি: প্রথম আলো

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, কুশলীবাসা-ধলনগর বাজার সড়কের স্কুলপাড়া এলাকায় ছাত্রদল নেতা শিমুলের মামার টিনশেডের আধা পাকা ঘর। ঘরের বেড়া এলোপাতাড়ি কোপে অসংখ্য কাটা, ভেতরের আসবাব ও বিদ্যুতের মিটারের ভাঙচুরের ক্ষত। ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

এ সময় শিমুলের মামি আছিয়া খাতুন বলেন, ‘খেলা নিয়ে কী ঘটেছে তা জানি না। সবাই খাতি (খেতে) বয়ছে। আনুমানিক রাত নয়টার দিকে ছাগলাপাড়ার ১৫০-২০০ জন লোক একযোগে বাড়িতে হামলা করে। আমরা ভয়ে দৌড়ি দিয়ে পালাই। আর ওরা ঘরবাড়িতে ভাঙচুর করে লুটপাট করে নিয়ে গেছে।’

ছাত্রদল নেতা শিমুল পারভেজ বলেন, ‘মাঠে টুর্নামেন্ট ছাড়া হয়েছে। কয়েক দিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ছাগলাপাড়ার শাহিন, মিতুল, লিখনরা বাধা দেয়। এ নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার বিকেলে ওরা আমাদের তিন ভাইকে মারধর করে। আবার রাতে বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। থানায় মামলা করা হবে।’

লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করলেও ভাঙচুরের কথা স্বীকার করেছেন ছাগলাপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা। ওই পাড়ার তোরাব আলী বলেন, ‘ওই মাঠে ছাগলাপাড়ার ছেলেপেলের খেলতে দেয় না শিমুলরা। এ নিয়ে বিরোধ চলছিল। গতকাল বিকেলে আমাদের একজনকে মারধর করেছিল। রাতে অল্প বয়সের ছেলেপেলে জড়ো হয়ে ভাঙচুর করে ফেলেছে। আমরা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। তবে কেউ লুটপাট করেনি।’

ফুটবল খেলা নিয়ে একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।