বরিশালে এসেছে প্রাথমিকের শতভাগ বই, অষ্টম শ্রেণির বই পেতে অপেক্ষা

বই হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দ প্রকাশ। আজ সকালে বরিশাল জিলা স্কুলেছবি: প্রথম আলো

বছরের প্রথম দিনে কোনো উৎসব ছাড়াই বরিশালের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ বই বিতরণ করা হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬৭ শতাংশ বই। সরবরাহ না করায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোনো বই দেওয়া যায়নি।

অল্প দিনের মধ্যেই বাকি বই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁরা বলেন, এরপর এসব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে অষ্টম শ্রেণির বই পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই বরিশালের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। এবার নতুন বই বিতরণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিকতা করা হয়নি।

নগরের অক্সফোর্ড মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলিনুস গুদা বলেন, এই স্কুলের ৯১৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে তাঁরা চাহিদার ৫০ ভাগের বেশি বই পেয়েছেন। এসব বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে অষ্টম শ্রেণির কোনো বই পাওয়া যায়নি।

নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নগরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অভি বিশ্বাস। সে বলে, ‘ধর্ম বই বাদে অন্য সব বই পেয়েছি। বছরের প্রথম দিন নতুন বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

জেলা শিক্ষা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, বরিশাল জেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা মিলিয়ে ৮৯৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন লাখ ১৫ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী আছে। তাদের জন্য বইয়ের চাহিদা ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৬টি। এর বিপরীতে সব মিলিয়ে বই পাওয়া গেছে ২১ লাখ ৯৩৬টি; এর মধ্যে স্কুলপর্যায়ে পাওয়া গেছে ৬৭ শতাংশ, কারিগরি পর্যায়ে ২৫ শতাংশ, ইবতেদায়ি পর্যায়ে শতভাগ। তবে ইংরেজি ভার্সনে এখনো কোনো বই পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা নিটুল মণ্ডল জানান, মাধ্যমিকে স্কুলপর্যায়ে ২১ লাখ ৭ হাজার ৫০২টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ৭০ শতাংশ বই এসেছে। এ ছাড়া মাদ্রাসার ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে দুই লাখ এক হাজার ৮৭০টি, যা চাহিদার বিপরীতে ৩০ শতাংশ। তবে ইবতেদায়ির ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯০ চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বই এসেছে।

বড় ভাই স্কুল থেকে নতুন পাঠ্য বই পেয়েছে। সেগুলো হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে ছোট বোন
ছবি: প্র্রথম আলো

নিটুল মণ্ডল আরও বলেন, দাখিল ভকেশনাল দুই হাজার ৮১০ চাহিদার বিপরীতে ২৫ শতাংশ, এসএসসি ভকেশনাল ৩৪ হাজার ১৭০–এর বিপরীতে ২৫ শতাংশ, স্কুলপর্যায়ে কারিগরি ট্রেডের ২৮ হাজার ৭১০–এর বিপরীতে ২৫ শতাংশ বই এসেছে। ইংরেজি ভার্সনে ১২ হাজার ৩১৫ চাহিদার বিপরীতে কোনো বই আসেনি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল জব্বারের দাবি, বরিশাল জেলায় অন্তত ৭০ শতাংশ বই পাওয়া গেছে। বাকি ৩০ শতাংশ বই কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অষ্টম শ্রেণির বই আসতে কয়েক দিন দেরি হবে।

অন্যদিকে বরিশাল জেলায় এক হাজার ৫৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৩৫টি বেসরকারি প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেনের ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২০৮টি বইয়ের বিপরীতে শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, বছরের প্রথম দিনেই বিদ্যালয়গুলোতে এসব বই বিতরণ করা হয়েছে।