লাথি মেরে মায়ের দাঁত ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষক ছেলে গ্রেপ্তার
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বৃদ্ধ মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলে মনিরুল ইসলাম তাঁর মা আনোয়ারা বেগমের (৭২) মুখে লাথি মারেন। এতে তাঁর সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, বৃদ্ধ আনোয়ারা বেগম নামের একজন রোগী শুক্রবার রাতে ভর্তি হয়েছেন। আঘাতে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে ভেতরে ঢুকে গিয়েছে। এখন তিনি সুস্থ আছেন।
এ ঘটনায় গতকাল শনিবার আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসী ইসলামের (ঝর্ণা) বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকেই পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনিরুল ইসলাম উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। একই বাড়িতে বসবাসের সুযোগে তিনি ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিলেন।
শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. পিয়ার উদ্দিন বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে আজ রোববার মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম তাঁর মুখে লাথি মারেন। এতে একটি দাঁত ভেঙে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন।