বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের মারামারির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের ধস্তাধস্তি ও মারামারির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনা তদন্তে নেমেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। পরে আজ বুধবার সকালে তদন্তের নির্দেশ জারি করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুই শিক্ষকের মারামারির ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আজ সকালে তাঁকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকেলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে লিখিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জানা গেছে, মারামারিতে জড়ানো দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁরা মারামারিতে জড়ান।

দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনা তদন্তে আজ দুপুরে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়টিতে যান। তিনি শিক্ষক দম্পতির অন্য সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ে মারামারি ও ধস্তাধস্তিতে জড়ান আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। তাঁদের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাঁদের সংসারে একটি মেয়ে আছেন। তিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকেন। দুজনের মধ্যে মামলাও চলছে আদালতে। তাঁরা দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও এমন বিরোধের জেরে মারামারি হয়। তিনিই সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করান। তিনি আরও বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দূরত্ব রয়েছে। তবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন আফজাল হোসেন।

দুই শিক্ষকের মধ্যে মারমারির ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক নাছিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘তাঁদের (আফজাল হোসেন ও আসমা বেগম) মধ্যে মাঝেমধ্যেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। বাড়ির ঝামেলা স্কুলে গড়ায়। ওই দিন দুজনে মারামারি শুরু করলে হেড স্যার ভিডিও ধারণ করতে বলায় আমি ভিডিও করেছিলাম।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, দুই শিক্ষক স্বামী-স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধ বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা ঠিক নয়। বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অসদাচরণ। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।