বিদ্যালয় থেকে শিশুকে ডেকে নিয়ে গেলেন নারী, অপহরণকারী সন্দেহে আটক–মারধর
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিদ্যালয় থেকে এক শিশুশিক্ষার্থীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে শিশুসহ ওই নারীকে পাওয়া যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন অপহরণকারী সন্দেহে তাঁকে মারধর করেন।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কটিয়াদী পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেথৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে বলে জানান কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইলমা (৭)। সে বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার জামাল মিয়ার মেয়ে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানিয়েছেন, তাঁর নাম প্রিয়া (২৫); বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায়। তাঁর নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম ধরে ডাকাডাকি ও তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমাকে ফুসলিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান।
ঘটনাটি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে পড়লে তারা ওই নারীর পিছু নেয়। পরে তারা দেখতে পায়, ইলমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দপ্তরিকে জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও খোঁজ শুরু করেন।
পরে ইলমার বাবা বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কটিয়াদীর পিপুলিয়া এলাকায় গিয়ে ওই অটোরিকশার সন্ধান পান। স্থানীয় লোকজন ওই নারীর পরিচয় ও শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। পরে উত্তেজিত জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং সেখানে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ইলমা জানায়, ওই নারী তাকে তাঁর বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইলমাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেছিলেন।
বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিশো আর সুলতানা বলেন, ‘আজ স্কুলে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ছিল। আবার শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তার আসার কথা ছিল। এই নিয়ে আমরা ব্যস্ত ছিলাম। এর মধ্যেই ইলমাকে কেউ একজন নিয়ে গেছে—এই তথ্য কানে আসে। তখন ইলমার খোঁজে আমরা সবাই ছোটাছুটি শুরু করি।’
এসআই মো. মাসুদ বলেন, আটক নারীকে জনতা মারধর করেছে। আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা আবারও মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় তিন থেকে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ির একটি কাচও ভেঙে গেছে।