জয়পুরহাটে দুই ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

দুই ছেলের বিরুদ্ধে জমি দখল করে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মা মেহেরুন নেছা। শনিবার বেলা ১১টায় জয়পুরহাট প্রেসক্লাব ভবনেছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে এক মা তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে জমি দখল করে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার বেলা ১১টায় জয়পুরহাট প্রেসক্লাব ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন মা মেহেরুন নেছা।

মেহেরুন নেছার দাবি, তাঁর দুই ছেলে মাহবুব আলম ও মারুফ হোসেন তাঁর ৩২ শতক জমি জোর করে দখলে রেখেছেন। দুই ছেলে তাঁকে জমি বের করে দিচ্ছেন না। জমি বুঝে চাইলে উল্টো নির্যাতন ও হয়রানি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেহরুন নেছার মেজ ছেলে মাসুদ রানা, তাঁর স্ত্রী মোছা. খুরশিদা বেগম, নাতনি মুন্নী আক্তার ও কয়েকজন প্রতিবেশী উপস্থিত ছিলেন। মেহেরুন নেছা জয়পুরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী। মেহরুন নেছার অভিযুক্ত দুই ছেলে মাহবুববু আলম চিত্রশিল্পী ও মারুফ হোসেন একজন ব্যবসায়ী। মাহবুব আলম জয়পুরহাট শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকায় ও মারুফ হোসেন সাহেবপাড়া মহল্লা থাকেন।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেহেরুন নেছা বলেন, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার আগে ২০১১ সালের ২৪ জুলাই তাঁকে ৩২ শতক জমি হেবা রেজিস্ট্রি দলিল করে দিয়েছিলেন। তিনি পরবর্তী সময়ে হেবা রেজিস্ট্রি করা জমি নিজ নামে নামজারি করে নিয়ে খাজনাও দিচ্ছিলেন। বড় ছেলে মাহবুব আলম ও ছোট ছেলে মারুফ হোসেন তাঁকে দেখভাল করার কথা বলে তাঁর জমি দখলে নেন। কিছুদিন দেখভাল করার পর তাঁরা আর কোনো কথা শোনেন না। একপর্যায়ে তিনি দুই ছেলের কাছ থেকে জমিটি ফেরত চান। তখন তাঁরা জমি ফেরত দিতে টালবাহনা শুরু করেন। এরপর তিনি লোকজনের কাছে জানতে পারেন, তাঁর দুই ছেলে মাহবুব আলম ও মারুফ হোসেন জমিটি বিক্রি দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটি জানার পর তাঁর দুই ছেলেকে জমি ফেরতের জন্য চাপ দেন।

মেহেরুন নেছা বলেন, এ ঘটনার পর গত জুলাই মাসে দুই ছেলে তাঁকে বিষ্ণুপুর গ্রামের বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে জয়পুরহাট শহরের সাহেবপাড়া মহল্লায় মারুফের বাসায় আনেন। সেখানে দুই ছেলে তাঁর কাছ থেকে ৩২ শতক জমি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি ঘটনাটি তাঁর মেয়ে রিনা পারভীনকে মুঠোফোনে জানান। মেয়ে রিনা তাঁর মাকে উদ্ধার করতে ভাইয়ের বাসায় আসেন। দুই ভাই ও ভাতিজা রিনাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। পরদিন তিনি (মেহেরুন) কৌশলে ছেলের বাড়ি থেকে বের হয়ে নওগাঁয় তাঁর নাতনির বাসায় চলে যান। এরপর তিনি স্বামীয় অসিয়ত মোতাবেক ৩২ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক জমি তাঁর মেয়ে রিনাকে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ ঘটনা জানার পর দুই ছেলে ও নাতি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। তিনি মেজ ছেলে মাসুদ রানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। মাকে আশ্রয় দেওয়ায় ওই দুই ভাই মেজ ভাই ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মেহেরুন নেছা আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। দুই ছেলে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। তাঁরা জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে মারুফ হোসেন বলেন, ‘আমরা দুই ভাই মায়ের জমি দখল করিনি। মাকে নির্যাতন করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার ভাই মাসুদ রানা মাকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অসত্য ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন। আমার মায়ের নামে ৩২ শতক জমি আছে। আমার মা তাঁর সেই জমি থেকে আমার বোনকে ২০ শতক জমি লিখে দিয়েছেন। আমরা যদি জমি দখল করি, তাহলে আমার বোনকে জমি রেজিস্ট্রি দিলেন কীভাবে?

এ বিষয়ে রিনা পারভীন বলেন, ‘আমাকে আমার মা ২০ শতক জমি লিখে দিয়েছেন। আমাকে মাত্র ৯ শতক জমি বের করে দিয়েছেন। আমার মায়ের বাকি জমি দুই ভাই বিক্রি করেছেন। জমির কারণে দুই ভাই আমার মাকে হেনস্তা করছে।’