হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে কথা–কাটাকাটি, এক পরিবারের ১৩ জন গুলিবিদ্ধ

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের পুলিশি নিরাপত্তায় হাসপাতালে আনা হয়। গতকাল রোববার রাত ১২টার পর মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেছবি: প্রথম আলো

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় কথা–কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী, শিশুসহ একই পরিবারের ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। গতকাল রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার রুদ্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন মিজান খান, তাঁর মা মিনু বেগম, ফুপু জয়তন বেগম ও শাফি বেগম, বাবা খোরশেদ খান, চাচা ইদ্রিস খান, ফুফাতো বোন ফাহিমা, ভাবি কাজল বেগম, নুপুর আক্তার ও বর্ণা আক্তার এবং ভাতিজা আয়ান ও মোস্তাকিন, ভাতিজি দোলন ও ইভা আক্তার। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মিজান ছাড়া অন্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের সবাই স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ খান ও তাঁর ছেলে মিজান খানের স্বজন। তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা হারুন খান ও তাঁর ভাতিজা মান্নান খানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন মিজান খান। এ সময় হারুন খান ও মান্নান খান তাঁকে রাতে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হারুন খান ও তাঁর সহযোগীরা মিজানকে মারধর করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান।

হামলায় নারী ও শিশুরা আহত হয়েছেন
ছবি: প্রথম আলো

পরে মিজানের বাবা খোরশেদ খান ছেলের অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন ও মান্নানের নাম ধরে গালিগালাজ করেন। তখন হারুন ও মান্নান ১০–১৫ জনকে নিয়ে মিজানদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে বাড়িতে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শংকর কুমার পাল আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত ১২টার পর নারী–শিশুসহ ১৪ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত রফিকুল খানের অভিযোগ, এলাকায় হারুন ও মান্নান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হেলমেট পরা কাউকে দেখলে তাঁরা পুলিশ ভেবে ভয় পান। এ কারণে এলাকায় কাউকে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে দেন না। এ নিয়ে তাঁরা প্রায়ই মানুষকে ভয়ভীতি দেখান ও মারধর করেন। বাড়ির নারী, পুরুষ ও শিশুরা গুলিবিদ্ধ হয়ে কাতরাতে থাকলেও হামলাকারী ব্যক্তিরা কাউকে হাসপাতালে নিতে দিচ্ছিলেন না।

পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর রুদ্রপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিয়া বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন, মান্নান ও মহসিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র দুটি বৈধ। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।