নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ, সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকো

  • ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়।

  • কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন

মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক করা হয়নি। সেতুতে ওঠার জন্য সাঁকোর ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ীতেছবি: হাসান মাহমুদ

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে নির্মিত একটি সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। কারণ, মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদার সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু করেন। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শেষ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর উপজেলার পিআইও মো. মানিকুজ্জামান বলেন, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি শিগগিরই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, গুমানী নদী থেকে একটি খাল চলে গেছে চলনবিলে। গুরুত্বপূর্ণ খালটি দুই পাশের ১০টি গ্রামকে আলাদা করেছে। দুই পাশের গ্রামগুলোর মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করতেই তৈরি করা হয়েছে সেতুটি। সেতুর পূর্ব পাশে দহপাড়া, লক্ষীকুন্ডা, বঙাবাড়িসহ কয়েকটি গ্রাম। এই পাশে আছে একটি মসজিদ। পশ্চিম পাশে দহপাড়া গ্রামের বাকি অংশ, দেওভোগসহ আরও কয়েকটি গ্রাম। আছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যালয় ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কারণে দুই পাশের বাসিন্দাদের এপার-ওপার করতে হয়। কিন্তু সেতুটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় লোকজনকে বিপাকে পড়তে হয়েছে। এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার জন্য স্থানীয় লোকজন সেতুর দুই পাশে বাঁশের সাঁকোর ব্যবস্থা করেছেন। এই সাঁকো দিয়ে সেতু পার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফরিদপুর উপজেলার দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে নির্মিত সেতুটিতে ওঠার জন্য দুই পাশে বাঁশের সাঁকোর ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় লোকজন।

সেতুর পূর্বপাশের দহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ফজলুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতুটি তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু দুই বছরেও কাজটি শেষ হয়নি। সেতু তৈরির আগে শক্ত বাঁশের সাঁকো ছিল। এখন সেই সাঁকোও নেই। এতে দুই পাড়ের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাসিন্দারা নিজেরাই সেতুতে ওঠানামার জন্য সাঁকো তৈরি করেছেন। সাঁকোর একদিকে অনেক উঁচু, অন্যদিকে নিচু। এতে সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে অনেকে পড়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়ভাবে বালুসংকটের কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল, এ কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে, এমন দাবি করেছেন সেতুর ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ (সাগর)। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ঠিকাদারকে সব কাজ দ্রুত শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর চূড়ান্ত বিল স্থগিত রাখা হবে।