‘ছাদরটা গায়ত কনকনে ঠান্ডাত অ্যানা উশুম পামু’

নওগাঁর পোরশা উপজেলার দেওলিয়া-বোরাম গ্রামে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বোরাম খেলার মাঠেছবি: প্রথম আলো

গুলেনুর বেওয়ার স্বামী মারা গেছেন বেশ আগেই। তাঁর ছেলে সপরিবারে ঢাকা থাকেন। গ্রামের বাড়িতে তাঁর খোঁজ–খবর নেওয়ার তেমন কেউ নেই। গরম কাপড়ের অভাবে তিনি এবারের শীতে কষ্ট পাচ্ছিলেন।

চাদর পেয়ে গুলেনুর বেওয়া বলেন, ‘বেড়ার বাড়িত জাড়ে (শীত) ম্যালা কষ্ট। কেউ হামার দিকে ফিরেও তাকায় না। তোমরা অনেক দূরত থেকে ছাদর দিতে আছিন। ছাদরখানা প্যায়ে উপকার হলো। ছাদরটা গায়ত কনকনে ঠান্ডাত অ্যানা উশুম পামু। আল্লাহ তোমাগেরে ভালো করবে।’

নওগাঁ বন্ধুসভার কাছ থেকে প্রথম আলো ট্রাস্টের চাদর পেয়েছেন ৭০ বছর বয়সী গুলেনুর বেওয়া। আজ বৃহস্পতিবার নওগাঁর পোরশা উপজেলার মশিদপুর ইউনিয়নের বোরাম খেলার মাঠে ২৭০ জন শীতার্ত মানুষকে শীতবস্ত্র দেওয়া হয়। সেখানেই এসেছিলেন দেওলিয়া মাদ্রাসাপাড়ার বাসিন্দা গুলেনুর বেওয়া।

চাদর বিতরণের জন্য দুই দিন ধরে মশিদপুর ইউনিয়নের দেওলিয়া, বোরাম, জয়পুর, মশিদপুর, বিশইল ও ফুলবাড়ি গ্রামে গিয়ে শীতার্ত মানুষের মধ্যে স্লিপ বিতরণ করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।

অন্যদের মধ্যে চাদর নিতে এসেছিলেন দেওলিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম। চাদর পেয়ে তিনি বলেন, ‘স্বামী প্রতিবন্ধী মানুষ। খ্যাটতে পারে না। হামি ম্যানষের বাড়িত কামকাজ করে স্বামী-ছলের মুখত কোনোমতোন খাবার জোটাই। টাকার অভাবে গরম কাপড় কিনতে পারি না। চালার বাড়িত সন্ধ্যা হলেও ঠান্ডাত খুব কষ্ট হয়। তোমাগেরে ছাদরটা প্যায়ে খুব উপকার হলো।’

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজকর্মী আবুল কালাম আজাদ, হারুনুর রশিদ, আবদুস সালাম, গাঙ্গুরিয়া কলেজের প্রভাষক আফজাল হোসেন, নওগাঁ বন্ধুসভার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সানম সাব্বির, বন্ধুসভার সদস্য মোহাম্মদ জিশান প্রমুখ।

চাদর পেয়ে জয়পুর গ্রামের মালতি রাণী বলেন, ‘মাটির দেয়াল ও টিনের চালার বাড়িত থাকি। রাতে কাঁথা তোশক দিয়ে শীত কাটলেও দিনে গায়ে দিয়ে ব্যার হওয়ার মতো গরম কাপড় আছিল না। এই ছাদরটা প্যায়ে খুব ভালো হলো।’

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সমাজকর্মী আবুল কালাম আজাদ বলেন, উত্তরের জেলা নওগাঁয় শীত জেঁকে বসেছে। তীব্র শীতে অসহায় শীতার্ত মানুষেরা খুব কষ্টে আছে। প্রথম আলো বন্ধুসভার মতো সমাজের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচ্ছল ব্যক্তিকে শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত।