‘৯০ পারসেন্ট লোককে দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে’

মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন রাজবাড়ী-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিম। শনিবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

‘নির্বাচনে ৯০ পারসেন্ট ভোটার ভোটকেন্দ্রে হাজির করতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য এই ৯০ পারসেন্ট লোককে দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।’

রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিম নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আজ শনিবার এ কথা বলেছেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর এ বক্তব্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জিল্লুল হাকিম এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

আরও পড়ুন

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই সভায় রাজবাড়ী-১ (সদর ও গোয়ালন্দ) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী কেরামত আলীও ছিলেন। কেরামত আলী ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। সভায় আরও ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকীর আবদুল জব্বার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রমজান আলী খান, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র আলমগীর শেখ প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আইনজীবী শফিক হোসেন।

আরও পড়ুন

জিল্লুল হাকিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার আবার বিজয়ের মাধ্যমে আবার প্রধানমন্ত্রী করে আমরা এই দেশটাকে উন্নত দেশে পরিণত করব।’ তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘ওরা নির্বাচন বয়কট করেছে। নির্বাচন প্রতিরোধ করবে। প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কি বিএনপির আছে? প্রতিরোধ করার ক্ষমতা যদি থাকত, তাহলে নির্বাচনে আসত। কারণ, ওদের সাংগঠনিক কাঠামো এই পর্যায়ে নেই যে ওরা নির্বাচন করবে। ওরা ঢাকায় যে আন্দোলনের ডাক দেয়, আপনারা দেখেন ওই চিহ্নিত লোকগুলোই ঢাকায় যায়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। আবার এখনো বলে যে নির্বাচন হবে না।’

রাজবাড়ী-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিম এবং রাজবাড়ী-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী কেরামত আলী (ডানে)
ফাইল ছবি

আরেক প্রার্থী কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই, যাতে আমরা আবারও দুটি আসনে বিজয়ী হতে পারি। আপনারা সব কর্মী নিজেকে নৌকার মাঝি মনে করে কাজ করবেন, এটা আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ। শত ষড়যন্ত্র ভেদ করে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।’

আরও পড়ুন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে রেলগেট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর। ওই দিন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ১২ ধারায় বলা আছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না। প্রতীক উল্লেখ করে ভোট চাওয়া বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আরও পড়ুন