মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর বিকেলে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের বিল–সংলগ্ন ধানখেত থেকে নূর জাহানের লাশের একটি খণ্ড ও বিল থেকে চারটি খণ্ড অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে নূর জাহানের ছেলে হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে চরজব্বার থানায় একটি মামলা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রাথমিক তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাদী নিজেই জড়িত সন্দেহে পুলিশ হুমায়নকে আটক করে। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। হুমায়নের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে প্রতিদিনের মতো নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন নূর জাহান। ওই রাতে কোনো এক সময় হুমায়ন ও তাঁর ছয় সহযোগী মিলে নূর জাহানের ঘরে ঢুকে বালিশচাপা দিয়ে নূর জাহানকে হত্যা করেন। পরে তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নূর জাহানের লাশ পাঁচ টুকরো করে ধানখেত ও বিলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পর গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গুলজার আহমেদ বলেন, ‘এ মামলায় আদালত মোট ২৭ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। যেহেতু এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তাই সব আসামির মৃত্যুদণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রহমান বলেন, আসামিরা সবাই বয়সে নবীন। পারিবারিক বিরোধেরে জেরে এ হত্যাকাণ্ড হওয়ায়, মৃত্যুদণ্ডের রায় আসামিদের সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের বিপরীতে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ আছে।