ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে ২৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
ছবি: ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে দেশের ২৫ বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। ১১ বছরেও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, হস্তক্ষেপ ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর ত্বকী হত্যার ১১ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৬ মার্চ। অথচ আজ পর্যন্ত এ হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়ে বিচার কার্য শুরু করা হয়নি। আমরা এতে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। অথচ এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর না যেতেই এর তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব কেন, কখন, কোথায়, কারা ও কীভাবে ত্বকীকে হত্যা করেছে, তা সংবাদ সম্মেলন করে যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করেছিল, যা আমরা তখন সংবাদপত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানতে পারি। তদন্ত শেষ করার দীর্ঘদিন পরও এ হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দুর্বলতা প্রদর্শন ও বিচারব্যবস্থায় বৈষম্য শুধু আইনের ব্যত্যয়ই নয়, তা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। কোনো হত্যার বিচার বন্ধ করে রাখা কখনোই কাম্য হতে পারে না। আমরা অচিরেই ত্বকী হত্যার বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ভাষাসৈনিক লেখক ও গবেষক আহমদ রফিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রবীন্দ্র-গবেষক শিক্ষাবিদ সন্‌জীদা খাতুন, লেখক অধ্যাপক যতীন সরকার, শিক্ষাবিদ হায়াৎ মামুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক শিল্পী রফিকুন নবী, শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, শিশু সংগঠক অধ্যাপক মাহফুজা খানম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক, শিক্ষাবিদ গবেষক সফিউদ্দিন আহমদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফি আহমেদ, নারী অধিকারকর্মী লেখক মালেকা বেগম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি লেখক-গবেষক মফিদুল হক, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, লেনিন চৌধুরী ও আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

আরও পড়ুন

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এর পর থেকে ত্বকীর হত্যার বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।