বাসচাপায় বিদেশে মৃত্যু হয়েছিল বাবার, দেশে ছেলেও মারা গেলেন সড়ক দুর্ঘটনায়
সৌদি আরবে বাসচাপায় বাবার যখন মৃত্যু হয়, তখন তিন বছরের শিশু ছিলেন কায়সার হামিদ (২৫)। দেশে তাঁর বাবার লাশ আনাও সম্ভব হয়নি। দুই দশক পর একইভাবে বাসচাপায় মৃত্যু হয়েছে কায়সার হামিদের।
কায়সার হামিদ চট্টগ্রামের রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারের সিকদারপাড়ার বাসিন্দা। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার পথে হাটহাজারী এলাকায় বাসচাপায় আহত হন তিনি।
কায়সার নগরের হাজেরা তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি নগরের একটি থাই অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন। আজ শনিবার দুপুরে গ্রামে কায়সার হামিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তাঁকে।
শোকে জ্ঞান হারাচ্ছেন মা
জানাজা শেষে কায়সার হামিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি পাকা ঘরের এক কক্ষে ছেলের কথা বলে বিলাপ করছেন তাঁর মা রোজী আকতার। স্বজনেরা তাঁকে ঘিরে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবু বিলাপ থামছে না তাঁর। আহাজারি করতে করতে কিছু সময় পরপর জ্ঞান হারাতে দেখা যায় রোজী আক্তারকে।
স্বজনেরা জানান, কায়সার হামিদের বাবা ফিরোজ আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ছিলেন। ২০০৪ সালে সৌদি আরবের মক্কায় বাসচাপায় মৃত্যু হয় তাঁর। নিজের মা–বাবাকে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
ফিরোজ আহমদের যখন মৃত্যু হয়, কায়সার হামিদের বয়স তখন তিন বছর। মুহাম্মদ কাইয়ুমও কোলের শিশু। দুই দশক পর স্বামী ফিরোজের মতো একইভাবে ছেলেকে হারাতে হলো রোজী আক্তারকে।
স্বজনেরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন কায়সার হামিদ। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের হাটহাজারীর নজুমিয়াহাট বাজারে এবি ট্রাভেলস নামের একটি বাসের চাপায় আহত হন তিনি। এরপর কায়সারকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
জানাজা শেষে গ্রামে কথা হয় কায়সারের চাচা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে। কায়সারের দুর্ঘটনার খবর শুনে বৃহস্পতিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছুটে আসেন তিনি। মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমার বড় ভাইয়ের মতো ছেলেটাকেও এভাবে হারাব কখনো আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। ছেলেকে কাঁধে করে নিয়ে দাফন করে আসলাম।’
কায়সারের মামাতো ভাই কামরুল হাসান বলেন, পরিবারের অনটনের মধ্যেও কায়সারকে অনেক কষ্টে লেখাপড়া করিয়েছেন তাঁর মা। সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু মায়ের সব স্বপ্নকে তছনছ করে দিয়েছে।
জানতে চাইলে হাটহাজারীর মদুনাঘাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কাপ্তাইমুখী একটি বাস কায়সার হামিদের মোটরসাইকেলটি চাপা দেয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে।