পৌর পাইকারি বাজার থেকে ২০০ মিটার দূরে পৌর কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইকারি বাজারের তুলনায় সেখানে প্রতি কেজি মরিচ মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পৌর কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা প্রতি কেজি মরিচের দাম চাইছেন ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। আকাশচুম্বী দাম শুনে বিক্রেতাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া, আজ প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা ও বেগুন ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতি দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বর্ষণের কারণে জেলার মান্দা, বদলগাছী ও নওগাঁ সদর উপজেলার অনেক নিচু এলাকার সবজিখেত বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া অনেক সবজি খেতে পানি জমে যাওয়ায় মরিচসহ বিভিন্ন সবজি গাছের ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় মরিচ, পটোল, ঢ্যাঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়েছে।

পৌর পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে মরিচসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় ১৪-১৫ দিনের ব্যবধানে মরিচের দাম প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে।

পৌর পাইকারি বাজার সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আগে প্রতি দিন বাজারে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ মণ মরিচের আমদানি হতো, এখন সেখানে ৩০-৩৫ মণ মরিচের আমদানি হচ্ছে। শুধু মরিচ নয়, সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে খেতের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় সবজির দাম বাড়তি থাকে। এবারও আগামী এক-দেড় মাস সবজির দাম বাড়তি থাকতে পারে।

শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম রাব্বানী বলেন, বর্ষার কারণে গাছ নষ্ট হয়েছে অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতি তো এখনো তৈরি হয়নি যে বাজারে মরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা হিসাবে সরবরাহ ঠিক আছে। তারপরেও ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্য সবজির দামও বাড়তি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন