জামায়াতে ইসলামীকে নাম পরিবর্তনের অনুরোধ ফরহাদ মজহারের
জামায়াতে ইসলামীকে নাম পরিবর্তন করে রাজনীতি করার অনুরোধ জানিয়েছেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার। আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ অনুরোধ জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় ফরহাদ মজহার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দলটাকে আমি অসম্ভব পছন্দ করি, অসম্ভব ভালোবাসি তাদের নেতাদের। তাঁদের প্রথম দিন থেকেই বলেছি, ভাই, আপনারা কিন্তু বাহাত্তর সালের পর আপনাদের জামায়াত ইসলামী নামটা রেখে দিয়েছেন, এটা অন্যায় হয়েছে। কারণ, একাত্তর সালে আপনাদের যে ভূমিকা, এটা বাংলাদেশ নামে যে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, সেই স্পিরিটের পক্ষে যায় না।’
চিন্তক ফরহাদ মজহার জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ইসলামি আইডোলজি থেকে ডেমোক্রেটিক লীগ করেছিলেন, তারপর আবার জামায়াতে ইসলামী নামে কেন ফেরত এলেন? আমাদের অপমান করার জন্য? আপনি যদি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ক্রমাগত অপমান করতে থাকেন, আপনি আবারও কিন্তু শেখ হাসিনাকে আনবেন। আপনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান করলে ওই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাই কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন।’
মতবিনিময় সভায় কবি ও লেখক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এখনো আপনাদের আমি বিনয়ের সঙ্গে বলি, হাতজোড় করে বলি, এটা খুব ভালো সময়—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আপনারা আপনাদের নামটা পরিবর্তন করেন। এটা প্রথমত, বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটা বাধা; দ্বিতীয়ত, ইসলামের প্রতি তরুণদের যে আগ্রহ আর চেতনা, সে ক্ষেত্রেও এটা বাধা হয়ে আছে। আপনাদের একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য লোকজন ইসলামকে দায়ী করে। এটা আমাদের নিজেদের গঠনের ক্ষেত্রেও মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে।’
সেক্যুলার এবং ধর্মীয়—উভয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ, ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা, এ তিনের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। এ লড়াই কিন্তু শেষ হয়নি।’
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব জাহিদুল করিম। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি শহীদুল হক, শিক্ষক আর রাজী, সায়মা আলম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. ফেরদৌস, দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান প্রমুখ।